নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূম সহ মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমান জেলার একাংশে কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় সেচের জলের বড় ভরসা তিলপাড়া ব্যারাজ। যদিও ব্যারাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে জলধারণ ক্ষমতা কমেছে। ফলে আগামীতে সেচ নিয়ে কৃষকমহলে চিন্তা বাড়ছে। যদিও সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, ব্যারাজের জলধারণ ক্ষমতা কমলেও প্রয়োজনীয় সেচের জল সরবরাহে সমস্যা হবে না। এছাড়াও ব্যারাজ সংস্কারের কাজ শেষ হলে জলধারণ ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবিষয়ে সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বোরো ও খারিফ মরশুমের চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সেচের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না। তবে ব্যারাজের জরুরি সংস্কার শেষ হলে নতুন করে জলধারণ ক্ষমতা কিছুটা হলেও বাড়বে। এছাড়াও এবার বর্ষার মরশুম শেষে ফের ব্যারাজের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার হবে। আশা করছি, সেই কাজ শেষ হলে আগের মতোই জলধারণ ক্ষমতা ফিরে পাবে তিলপাড়া ব্যারাজ।
ময়ূরাক্ষী নদীর উপর তিলপাড়া ব্যারাজ গড়ার মূল লক্ষ্যই ছিল কৃষিতে সেচের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা। এই ব্যারাজের মাধ্যমে মূলত বোরো ও খারিফ মরশুমে চাষের জন্য জল ছাড়া হয়। এবছর খারিফ মরশুমেও চাহিদা অনুসারে জল ছাড়া হয়েছে। এরপর আবার বোরো মরশুমে জল ছাড়া হবে। সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, তিলপাড়া ব্যারাজ নির্মাণের পরবর্তীকাল থেকে ২০৫ ফুট লেভেল পর্যন্ত জলধারণ ক্ষমতা ছিল। যদিও ওই ব্যারাজে ফি বছর ২০১ ফুট লেভেল পর্যন্ত জল সংরক্ষণ করা হতো। তবে ব্যারাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতেই সংরক্ষণে ভাটা পড়ে।
সেচ দপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, সংস্কারের কাজ শেষের আগেই ভারী বৃষ্টি শুরু হতেই তিলপাড়া ব্যারাজ থেকে জল ছাড়া শুরু হয়। ভারী মাত্রায় এই জল ছাড়ার ফলে ব্যারাজের ডাউন স্ট্রিম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার জেরে ডিভাইড ওয়ালে ধরা পড়ে ফাটল। সেইসঙ্গে র্যাফটের একাংশ ভেঙে যায়। তার জেরে ব্যারাজের জলধারণ ক্ষমতায় ভাটা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ড্যাম বিশেষজ্ঞ জুলফিকার আহমেদের পরামর্শ মেনে তড়িঘড়ি জল সংরক্ষণে ইতি টানা হয়। ফলে এখনও নিয়মিত জল ছাড়ার প্রক্রিয়া জারি রাখা হয়েছে। তবে, ব্যারাজের জরুরিভিত্তিক সংস্কারের কাজ শেষের পর পুনরায় জল সংরক্ষণ করা হবে তিলপাড়ায়। তবে জলধারণ ক্ষমতা কি ফের আগের জায়গায় ফিরবে? তা অবশ্য এখনই স্পষ্ট বলা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ব্যারাজের জরুরিভিত্তিক সংস্কারের কাজ শেষের পর রাজ্যের তরফে প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করবেন। সে সময় তাঁরা ব্যারাজের জলধারণ ক্ষমতার যাচাইয়ের কাজও সারবেন। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনেই তিলপাড়া ব্যারাজে জল সংরক্ষণের পথে হাঁটবে সেচ দপ্তর।