নিজস্ব প্রতিনিধি, পিংলা: বছরের আর পাঁচটা দিন আলাদা হলেও প্রেম দিবসে লাল গোলাপ চাই-ই চাই। ভালোবাসার দিনে একে অপরের হাতে একখানি গোলাপ দিয়ে প্রেম নিবেদন করতে চান অনেকে। ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র আগে গোলাপের চাহিদাও আকাশছোঁয়া। তাতেই হাসি ফুটেছে ‘গোলাপগ্রামে’র বাসিন্দাদের। কারণ, এবছর গোলাপ ফুলে ভাইরাসের আক্রমণ হলেও বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা। পিংলা বিধানসভার জকপুর এলাকা থেকে গোলাপ গিয়েছে ভিনরাজ্যেও। চাষিরা জানান, পাইকারি বাজারে গত বছরের তুলনায় গোলাপের দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
গতবছর এক-একটি গোলাপের দাম ছিল আড়াই টাকা। সেখানে এ’বছর গোলাপের দাম সাড়ে ছ’-সাত টাকা পর্যন্ত মিলছে। গোলাপ চাষি কালীপদ মুদি কাজের ফাঁকে বলেন, এইসময় লাল গোলাপ ফুলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। কিন্তু ভাইরাসের আক্রমণে কিছু ফুল নষ্ট হয়েছে। তবে এবার বাজারে ফুলের দাম ভালোই পাওয়া যাচ্ছে। ভালোই গোলাপ বিক্রি হয়েছে। লাল গোলাপের সঙ্গে হলুদ, সাদা সহ নানা রঙের গোলাপের চাহিদাও রয়েছে। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর শহরে গোলাপ ফুল কিনতে এসেছিলেন তপন জানা। তিনি বলেন, ১৪ফেব্রুয়ারি গোলাপ ফুলের দাম আকাশছোঁয়া থাকবে। তাই আগে থেকেই প্রেমিকাকে ফুল দিচ্ছি। এবার ফুলের মান খুবই ভালো। ফুলে ভালো গন্ধ রয়েছে। গোলাপ চাষি ও বিক্রেতারা জানান, ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে গোলাপের বেশি চাহিদা থাকে। ভালোবাসার মরশুমে গোলাপ ফুলের জুড়ি মেলা ভার। ৭ফেব্রুয়ারি রোজ ডে দিয়ে ভালোবাসার সপ্তাহ শুরু হয়েছে। ওইদিনও গোলাপ ফুলের চাহিদা ছিল অনেকটাই বেশি। পাশাপাশি বেঙ্গালুরু থেকেও প্রচুর পরিমাণে গোলাপ ফুল আসছে। স্থানীয় গোলাপ চাষিদের একাংশের বক্তব্য, বাইরের রাজ্য থেকে গোলাপ বাজারে আসায় এখানকার গোলাপের চাহিদা কিছুটা কমেছে। কারণ ভিনরাজ্য থেকে আসা গোলাপের দাম তুলনামূলক কম। কিন্তু দেশি গোলাপের রং, মধুর্যই আলাদা। দেশি গোলাপ বেশিদিন সতেজ থাকে। জকপুর সংলগ্ন কাঁটাগেড়িয়ার গোলাপ ফুল চাষি সিন্টু হাজরা ও সন্টু হাজরা বলেন, দাম বেশি না পেলে আমরা ক্ষতির মুখে পড়তাম। গোলাপ চাষ করা কষ্টের। কাঁটার আঘাত লাগে। তবে, আমাদের ফুলেই প্রেমিক-প্রেমিকার মুখে হাসি ফোটে। সেটা ভাবলে ভালো লাগে। ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে ঝাড়গ্রামে বিক্রি হচ্ছে গোলাপ।-নিজস্ব চিত্র