সংবাদদাতা, বালুরঘাট: সীমান্তে কৃষকদের বিনা কারণে মারধর করার অভিযোগ উঠল বিএসএফের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, জওয়ানদের মারে পা ভেঙেছে এক কৃষকের।
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: সীমান্তে কৃষকদের বিনা কারণে মারধর করার অভিযোগ উঠল বিএসএফের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, জওয়ানদের মারে পা ভেঙেছে এক কৃষকের।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি থানার চকগোপাল এলাকায় এমন ঘটনার পর হিলি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আইসি শীর্ষেন্দু দাস বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বেশকিছু ফুটেজ জোগাড় করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
সীমান্তের বাসিন্দাদের উপর অত্যাচার বরদাস্ত করা হবে না বলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রও। অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে চকগোপাল এলাকার বাসিন্দা মতিউর মণ্ডল কাঁটাতার লাগোয়া কৃষিজমিতে জলসেচের কাজ করছিলেন। সেই সময় কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ান তাঁকে ডাকলেও মেশিন চলার জন্য শুনতে পাননি। তখন মতিউরকে ওই জওয়ান তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। এমনকী ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। খবর ছড়াতেই বাসিন্দারা ক্যাম্পে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেখানেও গ্রামবাসীদের লাঠি দিয়ে মারধর করা হলে কয়েকজন মহিলা জখম হয়েছেন বলে দাবি বাসিন্দাদের। এসবের মধ্যে এডিজি আসার খবর পেতেই চাপে পড়ে বিএসএফ ওই কৃষককে গ্রামবাসীর হাতে তুলে দেয়। আহত মতিউরকে হিলি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বালুরঘাট হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মতিউরের পায়ের একটি অংশ ও একটি আঙুল ভেঙে গিয়েছে। জখম কৃষকের পরিবারের সদস্য আব্দুল মালিক মণ্ডল বলেন, বিএসএফ যেভাবে আমাদের উপর অত্যাচার শুরু করেছে, তাতে বাস করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসন পাশে না থাকলে আমরা নিরুপায় হয়ে যাচ্ছি।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছুদিন ধরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি, বালুরঘাট সীমান্ত এলাকায় বাসিন্দাদের উপর বিএসএফের অত্যাচার ক্রমশ বেড়ে চলেছে। একাধিক ফলের গাছ কেটে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এনিয়ে ইতিমধ্যে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন। হেনস্তার বিষয় সামনে আসায় শনিবার বালুরঘাটে একটি রাস্তার উদ্বোধনে এসে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের পাশে থাকার বার্তা দেন বিপ্লব। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সবসময় সীমান্ত এলাকার মানুষের পাশে রয়েছেন। এই বিষয়টি বরদাস্ত করা হবে না। কোথাও অত্যাচার হলে থানায় লিখিত অভিযোগ করার জন্য আমরা বলছি। দলগতভাবে আন্দোলনে নামব।