সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ঘড়িতে তখন রাত ১১টা বেজে ১৫ মিনিট। ইডেন ফ্লাডলাইট জ্বলছে, কিন্তু তার আলোয় উত্সবের রং নেই। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মাথায় উজ্জ্বল আলো জ্বলছে ঠিকই, কিন্তু ইডেন থেকে ফেরা মানুষগুলোর মুখে তা যেন পৌঁছাচ্ছে না।
সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ঘড়িতে তখন রাত ১১টা বেজে ১৫ মিনিট। ইডেন ফ্লাডলাইট জ্বলছে, কিন্তু তার আলোয় উত্সবের রং নেই। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মাথায় উজ্জ্বল আলো জ্বলছে ঠিকই, কিন্তু ইডেন থেকে ফেরা মানুষগুলোর মুখে তা যেন পৌঁছাচ্ছে না।
অথচ বিকেলের ছবিটা ছিল একেবারে ভিন্ন মেজাজের। রেড রোড, মেয়ো রোড বা গোষ্ঠপাল সরণি— যেদিকে চোখ যায় মানুষের ঢল। ময়দান জুড়ে বেগুনি জার্সির সমাহার। উন্মাদনায় মুখর ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা বদলে গিয়েছে চরম হতাশায়। বেগুনি জার্সিগুলো এখনও গায়ে, তবে কাঁধগুলো ঝুঁকে পড়েছে। আইপিএলের দ্বিতীয় ম্যাচেও হারের যন্ত্রণায় বিদ্ধ কেকেআর সমর্থকরা। তাও আবার নিজেদের মাঠে!
ম্যাচ শেষে বাড়ি ফিরতি জনতার ভিড়ে দেখা গেল বছর সত্তরের অমীয়বাবুকে। গলায় কেকেআরের স্কার্ফ দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে প্রবীণ সমর্থক বলছিলেন, ‘জানতাম, আজও হবে না। তবু এলাম। প্রাপ্তি একরাশ হতাশা।’ সঙ্গী প্রদীপবাবু চুপ। কী বলবেন? ম্যাচের গোড়া থেকে যা হয়েছে, তাতে সান্ত্বনার ভাষা খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
অথচ শুরুতে সে কী উন্মাদনা ছিল তাঁদের চোখে মুখে! গতবারের দুর্দশা ঝেড়ে ফেলে কেকেআর নতুনভাবে শুরু করবে এমন আশাতেই বুক বেঁধেছিলেন তাঁরা। বিকেলের সাক্ষাতে প্রদীপবাবু বলেছিলেন, ‘এই কেকেআর খোলনলচে বদলে গিয়েছে। নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে টিম। ক্যামেরন গ্রিন, টিম সেইফার্টরা একাই ম্যাচ শেষ করে দিতে পারেন।’ কিন্তু কোথায় কী! ম্যাচে সবাই কাগুজে বাঘ হয়েই থেকে গেলেন। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে হেড, অভিষেক, ক্লাসেনদের দাপটে ২২৬ রান তোলে হায়দরাবাদ। জবাবে অবশ্য কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়েও ঝড় তুলেছিলেন ফিন অ্যালেন, অঙ্গকৃশ রঘুবংশীরা। সমর্থকদের মুখেও তখন হাজার ওয়াটের আলো। ডিজে বাজছে, করব লড়ব জিতব রে... স্লোগান উঠছে। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টিকল না। স্কোরবোর্ডের চাপে একের পর এক উইকেট হারিয়ে রীতিমতো চাপে পড়ে যায় হোম টিম। রঘুবংশী ফেরার পর রিঙ্কু সিং কিছুটা লড়াই করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট দেবতা মুখ ফিরিয়েই নিলেন। শেষরক্ষা হল না। টানা দ্বিতীয় হারের হতাশায় গ্যালারিতে নেমে এল ভারী নিঃশ্বাসের মেঘ। প্রদীপবাবুরাও চুপ। অমীয়বাবুর গলার স্কার্ফটা আরও ঝুলে পড়ল। বেদনার বাজনাই সঙ্গী কেকেআরের সমর্থকদের। তবুও পরের ম্যাচে ইডেন আবার ডাকবে। আবার আশায় বুক বাঁধবেন অনুরাগীরা।