Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সম্পর্ক মানতে চায়নি পরিবার, বামনগোলায় আত্মঘাতী যুগল

সম্পর্ক মেনে নেয়নি পরিবার। সেই দুঃখে আমবাগান থেকে বন্ধুকে ভিডিও কল করে বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা যুগলের।

সম্পর্ক মানতে চায়নি পরিবার, বামনগোলায় আত্মঘাতী যুগল
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: সম্পর্ক মেনে নেয়নি পরিবার। সেই দুঃখে আমবাগান থেকে বন্ধুকে ভিডিও কল করে বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা যুগলের। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়লেও দু’জনের শেষরক্ষা হয়নি। রবিবার রাতে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁদের। মৃতদের নাম ফুলটুস মণ্ডল ও রাখী মণ্ডল। তাঁরা বামনগোলা থানা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে খবর, দুর্গাপুজোর সময় দু’জনের পরিচয়। সেখান থেকে একে অপরের সঙ্গে মেলামেশা, ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। তারপর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের এই সম্পর্কের কথা মেনে নেননি মেয়ের বাড়ির লোকেরা। এমনটাই অভিযোগ মৃত যুবকের পরিবারের। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হন তাঁরা।
সোমবার মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছেলের মৃতদেহ নিতে এসে ফুলটুসের মা উজ্জ্বলা রানি মণ্ডলের অভিযোগ, মেয়ের বাবা এবং পিসি এই সম্পর্ক মেনে নেননি। এর জেরে মানসিক চাপে দু’জন আমবাগানে গিয়ে বিষ খেয়ে নেয়। 
যদিও এই ঘটনায় যুবকের পরিবারের তরফে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এদিকে ছেলের বাড়ির অভিযোগ মানতে নারাজ মৃত যুবতীর বাবা গোকুল মণ্ডল। তাঁর পাল্টা দাবি, ১২-১৩ দিন আগে ছেলেটি ফোন করে বলে আমার মেয়েকে ও ভালোবাসে। আমি নাকি মেয়ের অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক করেছি। সেটা করলে ছেলেটি আত্মহত্যা করবে বলে ফোন করে জানায়। 
গোকুলের আরও দাবি, আমার মেয়ে তাদের এই সম্পর্কের বিষয়ে কিছুই জানায়নি আমাকে। ওই ছেলেটিই আমার মেয়েকে বিষ পান করিয়ে তারপর নিজে আত্মঘাতী হয়। 
এই ঘটনায় মেয়ের পরিবারের তরফেও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। গোকুল বলেন, যে অপরাধী, সে এখন বেঁচে নেই। অভিযোগ করে আর কী হবে। কে সাজা পাবে? 
পুলিস এবং মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা মালদহ জেলার বামনগোলা থানা এলাকার বাসিন্দা। কিন্তু শনিবার তাঁরা গাজোল থানা এলাকার আগমপুরের একটি আম বাগানে গিয়ে বিষ পান করেন।
মৃত যুবকের মায়ের কথায়, আমার ছেলে ওর এক বন্ধুকে ভিডিও কল করে বিষ পান করে। ওর বন্ধুরাই ছুটে গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। 
মৃত যুগলের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিষ পানের পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে প্রথমে গাজোল স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাঁদের মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রবিবার রাতে মেডিক্যালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুগলের মৃত্যু হয়। সোমবার দুপুরের ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ