সংবাদদাতা, চাঁচল: বিজেপি শাসিত দিল্লিতে কাজে গিয়ে কয়েকমাস ধরে নিখোঁজ চাঁচল ২ ব্লকের সাহুরগাছি গ্রামের সামিরুল হক। সেখানে খোঁজ না মেলায় সামিরুলকে বাংলাদেশে পুশব্যাকের আশঙ্কা করছেন পরিবারের সদস্যরা। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষীদের উপর নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে পুশব্যাকের আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে ‘নিখোঁজ’ পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রীর। মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, এব্যাপারে পুলিসের সঙ্গে কথা বলব।
বছর বত্রিশের সামিরুল দশ মাস আগে দিল্লি যান নির্মাণ শ্রমিকের কাজে। সাত মাস পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই। ঘরে স্ত্রী ও দুই নাবালক সন্তান সহ বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন। পরিবারের দাবি, যাদের সঙ্গে সামিরুল ভিনরাজ্যে কাজে যান, তাঁরা অপরিচিত। সামিরুলের মোবাইল নেই। পরিচয়পত্রও নিয়ে যাননি। দিল্লি পৌঁছনোর তিনমাস পর অন্যের মোবাইলে একবার বাড়িতে ফোন করেছিলেন। সেই কল রিসিভ করেছিল সামিরুলের ছোট ছেলে। তারপর আর ফোন আসেনি। টানা সাতমাস সামিরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় চিন্তিত পরিবার।
সামিরুলের মা বানু বিবি ও বাবা সাহাবুদ্দিন হক বলেন, ছেলে প্রথমবার বাইরে গিয়েছে। আধার ও ভোটার কার্ডও নিয়ে যাইনি। কোথায় আছে জানি না। সেখানকার পুলিস আটক করেছে, নাকি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে, কিছুই বুঝতে পারছি না। ছেলের সন্ধান পেতে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন বানু। মিসিং ডায়েরি পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে চাঁচল থানা।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সাহাজান আলি বলেন, সামিরুল প্রথমবার বাইরে গিয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই বললেই চলে। কোনও পরিচয়পত্র নিয়ে যায়নি। তাই বাংলাদেশে পুশব্যাকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ, কালিয়াচকের আমির শেখকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দেওয়া হয়েছে।
স্বামীর চিন্তায় খাওয়া-নাওয়া ভুলেছেন সেমিনা খাতুন। দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। দু’মাস ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারও পাচ্ছেন না। এবিষয়ে বিডিও শান্তনু চক্রবর্তী বলেন, পরিবারটিকে ত্রাণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হবে।