Bartaman Logo
৯ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রথম দফায় ৭টি বাড়ি পেল বউবাজার মেট্রো বিপর্যয়ে ভিটেহারা পরিবারগুলি

দীর্ঘ সাত বছরের ‘অভিশাপ’ থেকে মুক্তি! দুর্গাপুজোর মুখে খুশির খবর বউবাজারে। মেট্রো বিপর্যয়ে ভিটেছাড়া একাধিক পরিবার ফিরছে নতুন বাড়িতে।

প্রথম দফায় ৭টি বাড়ি পেল বউবাজার মেট্রো বিপর্যয়ে ভিটেহারা পরিবারগুলি
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতাও: দীর্ঘ সাত বছরের ‘অভিশাপ’ থেকে মুক্তি! দুর্গাপুজোর মুখে খুশির খবর বউবাজারে। মেট্রো বিপর্যয়ে ভিটেছাড়া একাধিক পরিবার ফিরছে নতুন বাড়িতে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ বাড়ি বানানোর কাজ চালাচ্ছে। সেখানে নতুন করে তৈরি সাতটি বাড়ি বৃহস্পতিবার বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

২০১৯ সালে আগস্ট মাসের শেষ দিকে আচমকাই নড়ে ওঠে বউবাজার চত্বরে একাধিক বাড়ি। দুর্গা পিতুরি লেন, স্যাঁকরা পাড়া লেন, মদন দত্ত লেন, হিদারাম ব্যানার্জি স্ট্রিটে একের পর এক পুরোনো বাড়িতে ফাটল ধরতে শুরু করে। আতঙ্কে প্রাণ হাতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা। বেশ কয়েকটি বাড়ি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। জানা যায়, মাটির নীচে মেট্রোর টানেলের কাজের জেরেই এই বিপত্তি। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন বাড়ি থেকে জিনিসপত্র বের করা শুরু হয়। বহু পরিবার আবার এক কাপড়ে ভিটেছাড়া হয়। সেইদিন চোখের সামনে এই কাণ্ড দেখে কার্যত দিশেহারা অবস্থা হয়েছিল তাঁদের। 
পরবর্তী সময়ে এই নিয়ে রাজনীতির জল ঘোলা হয়েছে। আন্দোলন, রাস্তা অবরোধ চলেছে। ঘরহারাদের পুনর্বাসন দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলেছে লাগাতার। প্রথমে আবাসন বানিয়ে ফ্ল্যাট বিলির পরিকল্পনা থাকলেও, শেষমেশ মেট্রো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, যেখানে যেমন বাড়ি ছিল, সেই মতো বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করা নিয়ে টালবাহানার মাঝে কেটে গিয়েছে ছয় থেকে সাত বছর। এদিন, প্রথম পর্যায়ে সাতটি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়। বাকিগুলি দফায় দফায় দেওয়া হবে। মোট ২৭টি বাড়ি নতুন করে তৈরি হচ্ছে। বাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে। 
বাড়ির চাবি হাতে পেয়ে যেন চাঁদ পেয়েছেন এই ঘরছাড়া পরিবারগুলি। নতুন ঘর পাওয়া বাসিন্দা সন্দীপ সাউ বলেন, মাথার ছাদ ফিরে পাচ্ছি। এতদিন যাযাবরের মতো জীবন কাটিয়েছি। যেখানে ছিলাম, সেখানে ফিরব। পুজোর ঠিক আগে নিজের ভিটে ফিরে পাওয়ার মতো আনন্দ আর কী হতে পারে। অত্যন্ত খুশি আমরা। এই অনুভূতি বলে বোঝানো যাবে না। অন্য ঘরছাড়া বাসিন্দা আশিস দাস, গৌতম লাহা বলেন, সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে কাজে ব্যাপক গতি এসেছে। আমরা আশা করছি, চলতি বছরে না হলেও, পরের বছর বাড়ি পেয়ে যাব।
প্রাক্তন কাউন্সিলার বিশ্বরূপ দে বলেন, মানুষগুলিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরিয়ে দিতে লাগাতার আলোচনা, আন্দোলন সব করেছি। শেষ পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের কয়েকটি পরিবার ঘর পেয়েছে। খুব ভালো লাগছে। শুনেছি, আগামী বছরের শেষে কিংবা ২০২৮ সালের শুরুর দিকে বাকিরাও তাঁদের বাড়ি পাবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ