মুম্বই: ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের (বার্ক) বিজ্ঞানী বলে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে প্রতারণা। ৬০ বছরের সেই ব্যক্তি ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে মুম্বই পুলিশের জালে। এই ঘটনায় এবার সামনে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, আদতে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের বাসিন্দা ধৃত ওই ভুয়ো বিজ্ঞানী ইরানের কিছু সংস্থাকে পরমাণু চুল্লি সংক্রান্ত জাল নকশা বিক্রির চেষ্টায় ছিলেন। ‘বৈজ্ঞানিক সহায়তা’ ও ‘গবেষণা সহযোগিতা’র নাম করে প্রতারণার সেই ছক কষা হয়েছিল।
আখতার হুসেনি কুতবুদ্দিন আহমেদ নামে ওই ভুয়ো বিজ্ঞানীর পাশাপাশি তাঁর ভাই আদিল হুসেনিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত দুই ভাই লিথিয়াম-৬ পরমাণু চুল্লির ভুয়ো নকশা ভিপিএন এবং এনক্রিপ্টেড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। ভুয়ো ওই বিজ্ঞানী মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ ইরানের রাজধানী তেহরানে গিয়েছিলেন। এছাড়া ভারত ও দুবাইয়ে ইরানের দূতাবাসেও গিয়েছিলেন বহুবার। শুধু তাই নয়, বার্কের প্রবীণ বিজ্ঞানীর ভুয়ো পরিচয় দিয়ে মুম্বইয়ে ইরানের এক কূটনীতিকের সঙ্গে প্রতারণা করেছিলেন। পরমাণু চুল্লির ব্লুপ্রিন্টের নাম করে ভুয়ো তথ্য দিয়েছিলেন ওই ইরানি কূটনীতিককে।
সূত্রের খবর, তদন্তকারীদের ভুল পথে চালিত করতে দুই ভাই বিভিন্ন জটিল বৈজ্ঞানিক পরিভাষা ব্যবহারের চেষ্টায় ছিলেন। নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ফিজিক্স, আইসোটোপ কেমিস্ট্রি, প্লাজমা ডিনামিক্সের মতো শব্দ ব্যবহার করে জটিল সব তত্ত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। এই অবস্থায় প্লাজমা ফিজিক্স ও নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেন তদন্তকারীরা। সেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে দেন, ধৃতরা যেসব বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের কথা বলছেন, বাস্তবে সম্ভবই নয়।