Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইটাহারের খেসরাদিঘিতে নকল মদ তৈরির কারখানার হদিশ

এবার আর বাংলা-বিহার সীমানায় নয়। ইটাহারে ভেজাল মদ তৈরির গোপন কারখানার পর্দাফাঁস করল উত্তর দিনাজপুর জেলা আবগারি দপ্তর।

ইটাহারের খেসরাদিঘিতে নকল মদ তৈরির কারখানার হদিশ
  • ৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ ও সংবাদদাতা, ইটাহার : এবার আর বাংলা-বিহার সীমানায় নয়। ইটাহারে ভেজাল মদ তৈরির গোপন কারখানার পর্দাফাঁস করল উত্তর দিনাজপুর জেলা আবগারি দপ্তর। আচমকা অভিযানে বাজেয়াপ্ত হয় ১০৮ লিটার নকল মদ। উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫০০ লিটার কাঁচা স্পিরিট, কয়েক হাজার পিস ছিপি, কয়েক হাজার পিস নামি ব্রান্ডের হলোগ্রাম, ফুড কালার, ফ্লেভার, ক্যারামেল, কার্টন। সবমিলিয়ে প্রায় ২১ লক্ষ টাকারও বেশি পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার করেছে জেলা আবগারি দপ্তর। 

Advertisement

উত্তর দিনাজপুর আবগারি দপ্তর সূত্রে খবর, ইটাহার ব্লকের জয়হাট গ্রাম পঞ্চায়েতের খেসরাদিঘি এলাকায় ৬ মাস আগে মোকতারুল হুসেন নামে এক ব্যক্তি গ্রামীণ সড়কের ধারে গোডাউন নির্মাণ করেন। পরে সেই গোডাউন ভাড়া দেওয়া হয়। বেশি মুনাফার আশায় কিছু দিন ধরে চোরাগোপ্তাভাবে কারখানাটি চালাচ্ছিল অসাধু কারবারিরা। এই অবৈধ কারবারের বিন্দুমাত্র টের পাননি স্থানীয় বাসিন্দারা। যেখানে স্বাদে গন্ধে আসল মদের অনুকরণেই ভেজাল মদ তৈরি চলছিল। রীতিমতো ঘর ভাড়া নিয়ে মদ তৈরির কারখানা তৈরি করে ফেলেছিল কারবারিরা। সম্প্রতি গোপন সূত্রে  কারখানাটির হদিশ মেলে। এরপর শুক্রবার বিকেলে  সেখানে এই অভিযান এবং উল্লেখযোগ্য সাফল্য মেলে। 
এক আবগারি আধিকারিকের অনুমান, এই ভেজাল কারবারে বিহার যোগ থাকতে পারে। যদিও এখনও বিস্তারিত তদন্ত বাকি। জানা গিয়েছে, আবগারি দপ্তরের কর্মীরা খেসরাদিঘি পৌঁছতেই ভেজাল মদ ব্যবসায় যুক্ত কর্মীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে কাউকে পাওয়া যায়নি। 
অভিযানের পর স্থানীয়রাও রীতিমতো তাজ্জব। কীভাবে বাড়ির আড়ালে মদের ভেজাল কারখানা চলছিল, তাও সকলের অজানা। তবে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে নেমেছে আবগারি দপ্তর। এর আগেও একাধিকবার ডালখোলায় বাংলা-বিহার সীমানা এলাকায় নকল মদের কারখানার হদিশ মেলে। বিপুল পরিমাণে নকল মদ ও নকল মদ তৈরির উপকরণ বাজেয়াপ্ত হয়। যার সূত্র ধরে আবগারি দপ্তর ইটাহারে এধরনের কারখানার হদিশ পেল বলে জানা গিয়েছে। 
গোডাউন মালিকও কি এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত? প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। আবগারি হানার পর থেকে অবশ্য পলাতক মোকতারুল। ইতিমধ্যে জেলা আবগারি দপ্তর গোডাউনটি সিল করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আনেসুর রহমান জানান, এই চক্রের জড়িতদের সবার উপযুক্ত শাস্তি চাই আমরা।  এই গোডাউনেই তৈরি হতো নকন মদ। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ