Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরিচয় ভাঁড়িয়ে বিয়ে, ধৃত ভুয়ো আইপিএস

আইপিএস অফিসার পরিচয় দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমের জালে ফাঁসিয়েছিলেন এক যুবতীকে। সেই প্রেম গড়ায় বিয়ে পর্যন্ত। মাস ছয়েকের মধ্যে স্বামীর চালচলনে সন্দেহ হয় নববধূর।

পরিচয় ভাঁড়িয়ে বিয়ে, ধৃত ভুয়ো আইপিএস
  • ২৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: আইপিএস অফিসার পরিচয় দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমের জালে ফাঁসিয়েছিলেন এক যুবতীকে। সেই প্রেম গড়ায় বিয়ে পর্যন্ত। মাস ছয়েকের মধ্যে স্বামীর চালচলনে সন্দেহ হয় নববধূর। পেশা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রশ্ন করলে তাঁকে বেধড়ক মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ। প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিস ওই অভিযুক্ত স্বামী হৃদয় দেব বসাককে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ শহরের বীরনগর এলাকায়। তদন্ত শুরু করে রায়গঞ্জ থানার পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত কোনও আইপিএস অফিসার নন। আইপিএস অফিসারের পরিচয় দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে যুবতীকে বিয়ে করেছিলেন। ভুয়ো ওই আইপিএস চাকরি দেওয়ার নাম করে অনেকের থেকে টাকা তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পুলিস সূত্রে খবর, বিভিন্ন থানায় অভিযোগ হয়েছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

Advertisement

রায়গঞ্জ থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকারের বক্তব্য, অভিযুক্ত ওই যুবকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 
নির্যাতিতা বধূ ও তাঁর পরিবারের দাবি, মালদহের বাসিন্দা হৃদয়ের সঙ্গে আট মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ হয় শম্পা দাসের। মাস দুয়েক প্রেমের সম্পর্কের পর ছ’মাস আগে হৃদয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় টানোহরির বাসিন্দা শম্পার। এরপর থেকেই শহরের বীরনগর এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন তাঁরা। বিয়ের পর থেকে দিনভর বাড়িতেই থাকতেন হৃদয়। তখন শম্পার মনে প্রশ্ন জাগে, আইপিএস হলে বাড়িতে কেন বসে থাকেন স্বামী। শম্পার দাবি, আমাকে একসময় আইপিএস অফিসারের পরিচয়পত্র দেখিয়েছিল। পরে আলাদা আলাদা পরিচয় দিত বলে সন্দেহ বাড়ে। কখনও বলে সাইবার ক্রাইমে কাজ করে। আবার কয়েকবার জানিয়েছিল ফুড সাপ্লাই দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত। এভাবে চলার পর একসময় বুঝতে পারি প্রতারিত হয়েছি। এরপর পেশার ব্যাপারে কথা বলতে গেলে প্রায় ঝগড়া করে মারধর করত। বুধবার রাতে বচসা শুরু হলে আমাকে বেধড়ক মারধর করে। বাড়ির লোক এসে আমাকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছিল।
শম্পার মা সুমিত্রা দাসের কথায়, হৃদয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। ও শুধু ভুয়ো পরিচয় দিত না, চাকরি দেওয়ার নাম করে লোকের থেকে অনেক টাকা তুলেছে। শেষপর্যন্ত পুলিস ওকে গ্রেপ্তার করেছে। তার কাছ থেকে বেশকিছু ভুয়ো নথি উদ্ধার হয়েছে।  ধৃত ভুয়ো আইপিএস অফিসার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ