লখনউ, ২৩ জুলাই: ভুয়ো চিকিৎসক, ভুয়ো পুলিস, ভুয়ো সিবিআই কিংবা ইডি অফিসার, এমনকী ভুয়ো অফিসেরও হদিশ পাওয়া গিয়েছে দেশে। কিন্তু ভুয়ো দূতাবাস? শুনলেই অবাক হচ্ছেন। ভাবছেন এইরকম আবার হয় নাকি! কিন্তু বাস্তবে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ‘ওয়েস্টআর্কটিকা’ নামক একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের ভুয়ো দূতাবাস খুলে প্রতারণা চক্র চলছিল। গতকাল, মঙ্গলবার সেই ঘটনা সামনে আসে। গাজিয়াবাদেই বিলাসবহুল দু’তলা বাড়ি ভাড়া দিয়ে নিজেই ‘ওয়েস্টআর্কটিকা’র ভুয়ো দূতাবাস চালাচ্ছিল হর্ষবর্ধন জৈন নামের এক ব্যক্তি। উত্তরপ্রদেশ এসটিএফের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ওই ব্যক্তি। পুরো বিষয়টির রহস্য উন্মোচনও করেছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, ধৃত ব্যক্তি এই দূতাবাস খুলে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখাত যুবকদের। তাদের টাকা পাচারের কাজে লাগাত। মূলত হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা পাচারের অন্যতম আস্তানা ছিল এই দূতাবাসটি।
ধৃত ব্যক্তি নিজেকে ‘ওয়েস্টআর্কটিকা’র রাষ্ট্রদূত বলে পরিচয় দিত। ওই দূতাবাসের বাইরে বিলাসবহুল গাড়ি থাকত। যাতে কূটনৈতিক নম্বর প্লেট সাঁটানো থাকত। এই সব কাণ্ড করেই সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করত ধৃত হর্ষবর্ধন জৈন। শুধু তাই নয়, ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী সহ একাধিক জনপ্রিয় ব্যক্তির সঙ্গে ভুয়ো ছবি বানিয়ে দূতাবাসের মধ্যে লাগিয়ে রেখেছিল সে। যাতে কারোর সন্দেহ না হয়। সূত্রের খবর, পুলিসের খাতায় ২০১১ সাল থেকেই নাম রয়েছে হর্ষবর্ধনের। সেই সময়ে স্যাটেলাইট ফোনের চোরাচালানের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের হয় তার নামে। বেশ কিছুদিন ধরেই হর্ষবর্ধনের খোঁজে ছিল পুলিস। গতকাল, হাতেনাতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিসের এসটিএফ। ওই ভুয়ো দূতাবাস থেকে ১২টি দেশের কূটনৈতিক পাসপোর্ট, বিদেশমন্ত্রকের স্ট্যাম্প দেওয়া ডকুমেন্ট, ৩৪ টি দেশের স্ট্যাম্প, ৪৪ লক্ষ টাকা নগদ, বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গিয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ‘ওয়েস্টআর্কটিকা’ হল আমেরিকার এক নৌসেনার আধিকারিকের আবিষ্কৃত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। যদিও ‘ওয়েস্টআর্কটিকা’কে রাষ্ট্রের মর্যাদা এখনও দেয়নি বেশিরভাগ দেশই।