সংবাদদাতা, তেহট্ট: জাল জন্ম শংসাপত্র দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাহেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সহায়ক রাজীব বিশ্বাসকে নিয়ে সোমবার পঞ্চায়েতে গেল পুলিস। প্রসঙ্গত পলাশীপাড়া থানার সাহেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে জন্মের জাল শংসাপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এদিন সেখানে রাজীবকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন নথি পরীক্ষা করে পুলিস। প্রায় চারশো জন্ম শংসাপত্রের নথি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। সেই সঙ্গে জন্ম শংসাপত্রের পোর্টাল পরীক্ষা করে পুলিস। সেখানে রেজিস্টার ও পোর্টালে অনেক গরমিল দেখতে পায় পুলিস।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েতের এক কংগ্রেস সদস্যার অভিযোগের ভিত্তিতে তেহট্ট-২ ব্লক প্রশাসন থানায় অভিযোগ করে। সেই অভিযোগের তদন্ত করে পুলিস রাজীব বিশ্বাসকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে পুলিসি হেফাজতে নেয় পুলিস। সোমবার তাঁকে নিয়ে সাহেবনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে যায় পুলিস। এদিন পঞ্চায়েতে গিয়ে পুলিস জন্মমৃত্যুর রেজিস্টার দেখতে চায়। সেই সঙ্গে কোন নথির ভিত্তিতে জন্ম শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, তা দেখতে শুরু করে। এরপর সরকারি পোর্টাল দেখতে গিয়ে পুলিসের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। সেখানে দেখা যায় রেজিস্টারের সঙ্গে পোর্টালের কোনও মিল নেই। এমনকী বেশ কিছু শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, যার কোনও নথি নেই। পুলিস আরও জানতে পেরেছে, টাকার বিনিময়ে এই শংসাপত্রগুলি দেওয়া হয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে। এর পিছনে তাঁর সঙ্গে আর কে জড়িত, পঞ্চায়েত থেকে বেরনোর সময় রাজীব বিশ্বাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিজেপির প্রধান ও সিপিএমের উপ প্রধানের কথা বলেন। তিনি বলেন, এই দু’জন চাপ দিয়ে আমাকে এই কাজ করিয়েছেন। প্রসঙ্গত এই গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপি, সিপিএম ও নির্দলের পঞ্চায়েত। এই বিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিজেপির কৃষ্ণা মণ্ডলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। উনি আমার ডিজিটাল সিগনেচার ডোঙ্গল নিজের কাছে রেখে দিয়ে এই সব করেছেন। পুলিস আমার কাছে সাহায্য চাইলে সব সাহায্য করা হবে। একই ভাবে উপ প্রধান সিপিএমের জামালউদ্দিন মণ্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উপপ্রধানের কী ক্ষমতা আছে? নিজে দোষ করে ধরা পড়ার পর আমাদের জড়াতে চাইছেন। পুলিস তদন্ত করে দেখুক, কে দোষী। যদি কেউ দোষী হন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক পুলিস।