সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়িতে ধরা পড়ল ভুয়ো চিকিৎসক। রবিবার রীতিমতো ক্যাম্প করে প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে রোগীদের দিচ্ছিল ধৃত ব্যক্তি। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে পুলিস তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম নিত্যানন্দ রায়, সে নদীয়ার বাসিন্দা। ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষ বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ক্যাম্পে যিনি রোগী দেখছিলেন, তিনি চিকিৎসক নন জানতে পেরে ঘটনাস্থলেই বিক্ষোভে শামিল হন গ্রামবাসীরা। যদিও রামশাই পুলিস ক্যাম্পের আধিকারিকরা এসে পরিস্থিতি সামান দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকালে ব্যাপক চাঞ্চল ছড়ায় রামশাই গ্রাম পঞ্চায়েতের কালীমন্দির সংলগ্ন বাজার চত্বরে।
রবিবার রামশাইয়ে রোগী দেখার জন্য ক্যাম্প খুলে বসেছিল নদীয়ার বাসিন্দা নিত্যানন্দ। ডাক্তার না হয়েও ডাক্তারি করছিল সে। রোগীর রোগের কথা শুনে প্রেসক্রিপশনও লিখছিল। স্থানীয় বাসিন্দা সুষেন রায় বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ কী করে বুঝব আসল না নকল ডাক্তার। বাজারে দেখি লোকজন ডাক্তার দেখাচ্ছে। আমিও দেখাই। ওষুধ লিখে দিয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, কিছুদিন আগে পাড়ায় মাইকিং করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। তারপরেও এদিন দেখি টাকা নেওয়া হয়।
ময়নাগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সীতেশ বর বলেন, চিকিৎসকের ডিগ্রি না থাকলে এভাবে ওষুধ লেখা যায় না। প্রশাসন গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের রামশাই অঞ্চল সভাপতি দিগেন অধিকারী বলেন, ভুয়ো ডাক্তার ধরা পড়েছে। অভিযুক্তের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। অভিযুক্ত জানায়, সে চিকিৎসক নয়। চিকিৎসক ক্যাম্পে কোনও কারণে আসেননি। তবে ওই চিকিৎসক তাঁর প্রেসক্রিপশন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। সেটাতেই ওষুধ লিখে রোগীদের দেওয়া হচ্ছিল। রোগী দেখার জন্য নয়, ওষুধের জন্য টাকা নেওয়া হয়।
যাঁর নামে প্রেসক্রিপশন, তিনি চিকিৎসক কি না, কেন এভাবে প্রেসক্রিপশন দেওয়া হল, সবটাই পুলিস তদন্ত করে দেখছে বলে জানিয়েছেন আইসি। নিজস্ব চিত্র।