Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাইস চেয়ারম্যানের সই জাল করে নকল বার্থ সার্টিফিকেট! পুরসভায় সক্রিয় প্রতারণা চক্র, হইচই কোচবিহারে

জাল বার্থ সার্টিফিকেটের হদিশ মিলল কোচবিহার পুরসভায়। তাও এক-দু’টি নয়, ৭০টিরও বেশি জাল এমন শংসাপত্র পেল পুরসভা

ভাইস চেয়ারম্যানের সই জাল করে নকল বার্থ সার্টিফিকেট! পুরসভায় সক্রিয় প্রতারণা চক্র, হইচই কোচবিহারে
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: জাল বার্থ সার্টিফিকেটের হদিশ মিলল কোচবিহার পুরসভায়। তাও এক-দু’টি নয়, ৭০টিরও বেশি জাল এমন শংসাপত্র পেল পুরসভা। যেগুলির কয়েকটিতে পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন আমিনা আহমেদের জাল সই রয়েছে। পুরসভার অফিসারদেরও নকল স্বাক্ষর আছে সেই সার্টিফিকেটে। এসআইআর নিয়ে চর্চা চলছে। তারই মাঝে এত বিপুল সংখ্যক জাল জন্ম শংসাপত্র মেলায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহারে। জাল বার্থ সার্টিফিকেট তৈরির চক্র যে জেলায় সক্রিয়, এই ঘটনায় ফের তার একবার প্রমাণ মিলল। এর সঙ্গে পুরসভার কোনও ব্যক্তি জড়িত কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

Advertisement

কীভাবে নজরে এল এই ঘটনা? পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে হাতে লিখে জন্ম শংসাপত্র দেওয়া হতো। বেশকিছু দিন হল পুরসভা থেকে ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র প্রদান করা হচ্ছে। এই ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র দেওয়ার জন্য পুরসভায় একটি আলাদা বিভাগ আছে। সেখানে বেশকিছু দিন হল গ্রামীণ এলাকায় কিছু মানুষ প্রধানত কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যালের দেওয়া বার্থ সার্টিফিকেট নিয়ে আসছেন সেগুলি ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্রে রূপান্তরিত করতে। আর তা যাচাই করতে গিয়ে পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের নজরে আসে বিষয়টি। লালচে কাগজে রীতিমতো সই-সাবুদ করা, সিল দেওয়া এই শংসাপত্র দেখলে হঠাৎ করে বোঝার কোনও উপায়ই নেই, এগুলি জাল। 
২০১৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে কোচবিহার মেডিক্যালে জন্মানো শিশুর বার্থ সার্টিফিকেট  হাসপাতাল থেকেই দেওয়া হয়। তার আগের হলে পুরসভা দেয়। যে জাল জন্ম শংসাপত্রগুলি ধরা পড়েছে সেগুলির মধ্যে ২০০৩-২০০৪ সালের জন্ম শংসাপত্রও রয়েছে। আবার পরবর্তী সময়েরও কিছু আছে। রীতিমতো ল্যামিনেশন করা এই শংসাপত্রগুলি পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কাছে জমা পড়েছে। 
কোচবিহার পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন আমিনা আহমেদ বলেন, ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র চালু হওয়ার পরেই কর্মীরা আমার স্বাক্ষর জাল করে বানানো বার্থ সার্টিফিকেট দেখতে পান। তাঁরা আমার সই চেনেন। আমি নিজেও খতিয়ে দেখি, সেগুলির একটিও আমার সই নয়। তারপর থেকেই ওসব শংসাপত্র আটকানো শুরু হয়। যারা এগুলি নিয়ে আসছে তারাও সঠিক করে বলছে না তারা কাদের কাছ থেকে পেয়েছে। ভেরিফিকেশনের সময় এগুলি নজরে আসছে। আমি থানায় অভিযোগও দায়ের করেছি। কে বা কারা করছে তা তদন্ত সাপেক্ষ। 
পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, যখন ম্যানুয়াল ছিল তখন থেকেই এটা হয়েছে। এখন ডিজিটাল হয়েছে। এসআইআর নিয়ে যখন ডামাডোল চলছে তখন অনেকেই ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র বানানোর জন্য আসছেন। একটা চক্র কাজ করছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ এই জাল বার্থ সার্টিফিকেটকেই সত্যি ভাবছে। পুলিশ নিশ্চয় তদন্ত করবে।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ