Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশ থেকে ফিরতেই গ্রেপ্তার রানিনগরের জাল আধারের পান্ডা

কয়েকমাস আগে আধার জালিয়াতি চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল রানিনগর থানার পুলিস। তবে এই চক্রের কিংপিন মহাবুল ইসলাম পুলিসের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে ফিরতেই গ্রেপ্তার রানিনগরের জাল আধারের পান্ডা
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: কয়েকমাস আগে আধার জালিয়াতি চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল রানিনগর থানার পুলিস। তবে এই চক্রের কিংপিন মহাবুল ইসলাম পুলিসের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি বৃহস্পতিবার জলঙ্গির ভাদুরিয়াপাড়ার বাসিন্দা মহাবুল এলাকায় ফিরতেই রানিনগর থানার পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। তাকে হেফাজতে নিয়ে সোমবার রাতে জলঙ্গিতে হানা দিয়ে একটি প্রিন্টার ও বেশ কয়েকটি আধার কার্ড বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস।

Advertisement

১৩মে আধার জালিয়াতির অভিযোগে রানিনগরের কদমতলায় হানা দিয়ে পুলিস তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি আধার কার্ড ও আধার তৈরির সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়। এরপর পুলিস তাদের জেরা করে জানতে পারে, জলঙ্গির এক যুবক ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। সেইমতো পুলিস ২০মে জলঙ্গির ভাদুরিয়াপাড়ায় হানা দেয়। সেখান থেকে গাফফার আলি নামে এক যুবককে পাকড়াও করে। জেরায় ওই যুবক জানায়, এই চক্রের কিংপিন তার পাশের দোকানের মালিক মহাবুল ইসলাম। কিন্তু গাফফারের গ্রেপ্তারির পরই মহাবুল সতর্ক হয়ে গিয়েছিল। পুলিস তার দোকানেও অভিযান চালাতে পারে বুঝতে পেরে সে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। মাসকয়েক সে ওই দেশেই ছিল। পুলিসও তাকে গ্রেপ্তার করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কয়েকদিন আগে সূত্র মারফত পুলিস জানতে পারে, মহাবুল এদেশে ফিরেছে। এরপরই ৭আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। মহাবুলকে জেরা করে সোমবার রাতে ভাদুরিয়াপাড়ায় তার দোকান থেকে একটি প্রিন্টার ও বেশ কয়েকটি আধার কার্ড বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। আধার কার্ডগুলি আসল না নকল, সেই বিষয়টি পুলিস খতিয়ে দেখছে। পুলিসের বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, মহাবুল এই চক্রের মূল কিংপিন। সে দীর্ঘদিন ধরে আধার জালিয়াতি করত। অসমের এজেন্টদের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। মূলত অসম থেকেই সে আইডি ভাড়ায় নিত। এরপর আধার আইডি ও আধার তৈরির সরঞ্জাম চক্রের অন্য সদস্যদের সরবরাহ করত। তার বদলে ভাড়া নিত সে। অসমের আইডি ব্যবহার করেই আধারের বিভিন্ন কাজ করত মহাবুল। তার জন্য নির্ধারিত রেটের থেকেও বেশি মোটা অঙ্কের টাকা নিত। সেইসঙ্গে ফোটোশপে দক্ষ হওয়ায় নকল আধার কার্ডও তৈরি করত। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, মহাবুল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এরকম নকল আধার কার্ড তৈরি করে থাকতে পারে। বিষয়টি পুলিস খতিয়ে দেখছে। তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে মহাবুলকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ