Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁকসায় শালপাতার থালা তৈরিতে মিলছে না নায্য মজুরি

বন থেকে শালপাতা সংগ্রহের পর তা সেলাই করে তৈরি হচ্ছে থালা।

কাঁকসায় শালপাতার থালা তৈরিতে মিলছে না নায্য মজুরি
  • ৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: বন থেকে শালপাতা সংগ্রহের পর তা সেলাই করে তৈরি হচ্ছে থালা। এই শালপাতার থালা তৈরি করেই দু’টো পয়সার মুখ দেখছেন কাঁকসার তেলিপাড়া, কাঁঠালডাঙা, আঁধারশুলি, বাঁধেরডাঙা, পিয়ারীগঞ্জ এলাকার আদিবাসী মহিলারা। অনেকসময় সেই কাজে বাড়ির পুরুষরাও হাত লাগাচ্ছেন। কিন্তু, পাতা সংগ্রহ ও সেলাইয়ে যে পরিশ্রম হয়, সেই অনুযায়ী মজুরি মিলছে না বলে তাঁরা জানান।

Advertisement

কাঁকসা ব্লকে কমবেশি ৭৫টি আদিবাসী গ্রাম রয়েছে। মলানদিঘি, বনকাটি, ত্রিলোকচন্দ্রপুর ও গোপালপুর পঞ্চায়েতে আদিবাসী গ্রামের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জঙ্গলের পাশে থাকা এসমস্ত গ্রামের অনেকেই শুকনো কাঠ, কেন্দুপাতা, শালপাতা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মহিলারা জানান, তাঁরা প্রথমে জঙ্গল থেকে পাতা সংগ্রহ করেন। রোজ সকাল থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত এই কাজ চলে। বাড়ি ফিরে কুচিকাঠি দিয়ে পাতা সেলাই শুরু হয়। একটি পাতা সেলাই করতে দু’টি কুচিকাঠির প্রয়োজন হয়। পাতা সেলাইয়ের পর তা রোদে দিতে হয়। কিন্তু, তাঁদের আক্ষেপ, এত পরিশ্রমের সঠিক দাম মেলে না। একহাজার পিস পাতার দাম কখনও ১৫০, কখনও ২৫০টাকা মেলে। একটি পরিবারের তিনজন মিলে সারাদিনে একহাজার পাতা তৈরি করতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সানি টুডু বলেন, বনে পাতা সংগ্রহ করার ঝুঁকি রয়েছে। অনেকসময় বিষধর সাপ বা শিয়ালের মুখোমুখি হতে হয়। একসময় থার্মোকলের থালার রমরমায় শালপাতার থালার চাহিদা কমে গিয়েছিল। এখন চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শালপাতা শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু, শালপাতা ঘরে জমিয়ে রাখলে শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। মজুত করা যায় না বলেই কম দামে মহাজনদের কাছে বিক্রি করতে হয়। প্রশাসন থেকে পাতা মজুত করার ব্যবস্থা হলে সুবিধা হবে।
পশ্চিম বর্ধমানে বিভিন্ন প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার কাঁকসায় শালপাতার ‘ক্লাস্টার’ তৈরির কথা জানিয়েছিলেন। সেইমতো পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। অনেক আদিবাসী পরিবারের হাতে পাতা সেলাই করার যন্ত্র তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু, ব্লকের ধোবারু গ্রামে দেখা গেল, পাতা সেলাইয়ের হাতে ঘোরানো ও বৈদ্যুতিক বেশ কয়েকটি যন্ত্র প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যন্ত্রের সেলাই উচ্চমানের নয় বলে মহাজনরা ওই যন্ত্রে তৈরি পাতা নিতে চাইতেন না। এছাড়া, বিদ্যুৎ খরচ করে যন্ত্র চালালে যে বিল আসবে, অত টাকা পাতা বেচে আয় হবে না। সেই জন্যই যন্ত্র ব্যবহার করছেন না বলে শালপাতা প্রস্তুতকারীরা জানিয়েছেন।
কাঁকসার বাসিন্দা শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, থার্মোকলের থালাবাটি পরিবেশ দূষণ করে। কিন্তু, শালপাতার থালাতে তা হয় না। অনুষ্ঠানবাড়িতে শালপাতার থালা ব্যবহার করলে আদিবাসী মহিলাদের হাতেও কিছুটা অর্থ আসবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ