সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বিদেশি মদের কারখানার জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে দূষণ সৃষ্টিকারী স্পঞ্জ আয়রন কারখানা হতে দেওয়া যাবে না। এমনই অভিযোগ তুলে শনিবার রঘুনাথপুরের ধটাড়া ও আমতোড় গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। এদিন কারখানা কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করতে গেলে গ্রামবাসীরা বাধা দেন। দফায়, দফায় চলে বিক্ষোভ। পরিস্থিতি সামাল দিতে রঘুনাথপুর থানার আইসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিস বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। পুলিস ও কারখানা কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে। কয়েক ঘণ্টা পর পুলিসি হস্তক্ষেপে কারখানার কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে যাতে ঝামেলা না হয়, তার জন্য প্রস্তাবিত কারখানার সামনে পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে অচিনচন্দ্র মজুমদার বলেন, সম্পূর্ণ আধুনিক পদ্ধতিতে কারখানার কাজ হবে। কোনওরকম দূষণ হবে না। এখানে বিলেট বার(স্পেশাল স্টিল) তৈরি হবে। সমস্তটাই হাইড্রোজেন সিস্টেমে কাজ হবে। কোনওরকম কয়লা পোড়ানোর প্রয়োজন হবে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমলে (২০০৭-’০৮ সালে) বিদেশি মদের কারখানা করার জন্য রঘুনাথপুর-১ নম্বর ব্লকের নতুনডি পঞ্চায়েতের ধটাড়া মৌজায় জমি নেওয়া হয়েছিল। ধটাড়া ও আমতোড় গ্রামের ১২৫ জন কারখানার জন্য জমি দিয়েছিলেন। মোট ৩৫ একর জমি নেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত কারখানার শিলান্যাস পর্যন্ত হয়েছিল। তারপর কোনও কারণে কারখানার কাজ থমকে যায়।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ এখন স্পঞ্জ আয়রন কারখানা করতে চাইছে। বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েত, ব্লক থেকে মহকুমা ও জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তারপরেও কোনও কাজ হয়নি। গত ১৯ মার্চ কারখানার জমিতে কাজ শুরু হয়। সেই সময় গ্রামবাসীরা আপত্তি জানান।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত কারখানার জমি পাঁচিল দিয়ে ঘেরার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের কাজ শুরু হয়েছে। কারখানার জন্য প্রথম পর্যায়ে ১৮৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। সেখানে প্রত্যক্ষভাবে ২৫০ জন কাজ পাবে। জমি দাতা প্রতিটি পরিবারকে কাজ দেওয়া হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কারখানার কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে কারখানা চালু হয়ে যাবে।