Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’মাসেই বদলে গেল মণ্ডল কমিটির পূর্ণাঙ্গ লিস্ট, নন্দীগ্রামে বেআব্রু গেরুয়া শিবিরের গোষ্ঠীবাজি

বঙ্গ বিজেপির এক শীর্ষনেতার খাসতালুক নন্দীগ্রাম। এমনটাই নাকি রাজনৈতিক মহলের দাবি।

দু’মাসেই বদলে গেল মণ্ডল কমিটির পূর্ণাঙ্গ লিস্ট, নন্দীগ্রামে বেআব্রু গেরুয়া শিবিরের গোষ্ঠীবাজি
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: বঙ্গ বিজেপির এক শীর্ষনেতার খাসতালুক নন্দীগ্রাম। এমনটাই নাকি রাজনৈতিক মহলের দাবি। গেরুয়া বাহিনীর সভা-সমিতি, মিটিং-মিছিলেও নেতাদের মুখে ঘুরে ফিরে আসে নন্দীগ্রামের নাম। সেই খাসতালুকেই গৃহযুদ্ধে বেসামাল বিজেপি। দেড় মাসের মধ্যেই বদলে গেল নন্দীগ্রাম-৩ মণ্ডল কমিটি। আবার সেই রদবদল ঘিরেও দ্বন্দ্ব। তাকে সামাল দিতে গিয়ে ঘি পড়ল আগুনে! কালীচরণপুর এলাকায় চন্দন দাসের মতো দাপুটে বিজেপি নেতা দলছাড়ার কথা প্রকাশ্য ঘোষণা করে দিয়েছেন। আরও বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী হয়ে উঠছেন। সবমিলিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে নন্দীগ্রাম নিয়ে বেশ অস্বস্তি বাড়ছে পদ্ম শিবিরের। 

Advertisement

গত ২৯ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম-৩ মণ্ডলের ২২ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গড়া হয়। দেড় মাসের ব্যবধানে ৯ নভেম্বর সেই তালিকা বাতিল করে দেওয়া হয়। ওইদিন নতুন ২২ জন পদাধিকারীর তালিকা তৈরি হয়। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যে সেই তালিকা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মণ্ডল  নেতাদের একটা বড় অংশ। সেপ্টেম্বরের মণ্ডল কমিটিতে সম্পাদক ছিলেন চন্দন দাস। রবিবারের নতুন কমিটিতে তাঁর নাম নেই। এই ঘটনায় চন্দনবাবু অসম্মানিত বোধ করে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। 
একসময় তমলুক কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কের কর্মী ছিলেন চন্দনবাবু। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির করার কারণে চার বছর আগে তাঁকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। কালীচরণপুরে তৃণমূল কর্মী বিষ্ণুপদ মণ্ডল খুনের ঘটনায় পাঁচ মাস জেল খেটেছেন। বিজেপি করতে গিয়েই চাকরি হারিয়েছেন। জেলও খাটতে হয়েছে। বিনিময়ে দলের তরফে এমন বঞ্চনা মানতে পারছেন না তিনি। চন্দনবাবুর পাশাপাশি দলের গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে নেতৃত্বের কাছে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নন্দীগ্রাম বিজেপির একঝাঁক নেতানেত্রী। 
সোনাচূড়া, গোকুলনগর ও কালীচরণপুর পঞ্চায়েত নিয়ে নন্দীগ্রাম-৩ মণ্ডল কমিটি। তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতেই বিজেপির প্রধান। এককথায় ওই মণ্ডল বিজেপির ‘পাওয়ার সেন্টার’। কিন্তু, নেতাদের ক্রমাগত দ্বন্দ্বে দীর্ণ সংগঠন। যুযুধান দুই গোষ্ঠীর মধ্যে একদিকে নন্দীগ্রাম-৩ মণ্ডল সভাপতি বটকৃষ্ণ দাস। তাঁর বিপরীত শিবিরে জেলা সহ সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সাহেব দাস। দুই শিবির মণ্ডল কমিটিতে নিজেদের ঘনিষ্ঠদের পুনর্বাসন দিতে মরিয়া। ২৭ সেপ্টেম্বরের মণ্ডল কমিটির তালিকায় সাহেব দাস শিবিরের নেতাদের সংখ্যা তুলনায় কম ছিলেন বলে অভিযোগ। এনিয়েই ঝামেলা তুঙ্গে ওঠে। তাঁরা নানা কর্মসূচি এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। এরফলে দল শাসকদলের সঙ্গে লড়াইয়ে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যায়। অবস্থা বেগতিক বুঝে পুনরায় মণ্ডল কমিটি গড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইমতো ৯ নভেম্বর ফের আর একটি তালিকা প্রকাশ পেয়েছে। সেই তালিকায় সাহেব দাস ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চন্দন দাসকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় সাহেব দাস ঘনিষ্ঠ ভৃগুরাম পাত্রকে সম্পাদক করা হয়েছে।
সোমবার চন্দন দাস জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পালের কাছে ক্ষোভ উগড়ে দেন। মেঘনাদবাবু তাঁকে জেলা কমিটির সহ সভাপতি করার আশ্বাস দেন। কিন্তু, ওই আশ্বাসে চন্দনবাবু খুশি নন। এদিন বিকেল  চারটে নাগাদ প্রেস মিট ডাকেন। যদিও তাঁর প্রতিবেশী একজনের মৃত্যু হওয়ায় সাংবাদিক বৈঠক করেননি। তবে, ওই নেতা বলেন, ‘দল করতে গিয়ে আমি সর্বস্বান্ত হয়েছি। কিন্তু, বিনিময়ে এই বঞ্চনা মানতে পারছি না। আমি দল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ মেঘনাদবাবু বলেন, ‘মণ্ডল কমিটির তালিকা নিয়ে কারও কোনও ক্ষোভ থাকলে সেটা দলীয়স্তরে আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়া হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ