Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

ঘরোয়া উপকরণে ফেসিয়াল

হাতে মাত্র দু’সপ্তাহ। তার মধ্যে সেজে উঠতেই হবে। শারদোৎসব দরজায় কড়া নাড়ছে। কম সময়ে ঘরোয়া উপায়ে চটজলদি ত্বক পরিচর্যা করতে হবে। তাই ফেসিয়াল করে নিতে পারেন বাড়িতেই।

ঘরোয়া  উপকরণে ফেসিয়াল
  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

হাতে মাত্র দু’সপ্তাহ। তার মধ্যে সেজে উঠতেই হবে। শারদোৎসব দরজায় কড়া নাড়ছে। কম সময়ে ঘরোয়া উপায়ে চটজলদি ত্বক পরিচর্যা করতে হবে। তাই ফেসিয়াল করে নিতে পারেন বাড়িতেই। তার উপায় বলে দেওয়ার আগে সতর্ক করলেন কেয়া শেঠ। তাঁর কথায়, ‘প্রথমেই বলব, যাঁরা সারা বছর কিছু করেন না, বাড়ির উপকরণ দিয়ে একদিন ফেসিয়াল করে তাঁদের কোনও লাভ নেই। একটু একটু করে প্রতিদিন যত্ন করুন। ফেসিয়ালে ক্লেনজিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং এবং ফ্রেশনিং পর্যন্ত পুরো স্কিন কেয়ার হবে। তার একটা ভাগ যদি প্রতিদিন করতে পারেন, তাহলে পুজোর ঠিক আগে গিয়ে ফেসিয়াল করলে, ভালো ফল পাবেন।’ 
স্ক্রাবিং
দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় কেয়া দেখেছেন, যতই যত্ন করা হোক না কেন, ত্বকে ট্যান থাকেই। লাইফস্টাইল, কাজের ধরন, দূষণ— এর মতো নানা কারণে ট্যান পড়ে যায় ত্বকে। সবার আগে সেটা তুলে ফেলা দরকার। প্রতিদিনের রূপচর্চার মধ্যে ত্বকে কিছু মৃত কোষও জমা হতে থাকে। সেটাও তুলে ফেলতে হবে। এরজন্য স্ক্রাবিং করতে হবে। কেয়া বলেন, ‘পাকা কলার সঙ্গে বিট রুট পাউডার ভালো করে মিশিয়ে তার মধ্যে অল্প চিনি মিশিয়ে প্রতিদিন স্নানের আগে ব্যবহার করতে পারেন। স্ক্রাবিং প্রতিদিন করুন। এতে ত্বকের কোনও ক্ষতি হয় না। বরং ত্বকে ময়লা জমে থাকলে ক্ষতি হতে পারে।’ তিনি আরও জানান, স্ক্রাবার হিসেবে কাঁচা দুধ খুব ভালো। এই উপকরণের সাহায্যে যে কোনও ধরনের ত্বক দ্রুত পরিষ্কার হয়। কারণ এর মধ্যে ল্যাকটিক অ্যাসিড থাকে, যা ত্বককে ভিতর থেকে পরিচ্ছন্ন করে। বাড়িতে দুধের সর বা ময়দার মতো উপকরণ তো থাকেই। তার সঙ্গে অরেঞ্জ পিল পাউডার মিশিয়েও সহজে স্ক্রাব করে নিতে পারেন। 
টোনিং
স্ক্রাবিংয়ের পরের ধাপ টোনিং। ত্বক হাইড্রেট করতে হবে। বাজারচলতি কোনও টোনার ব্যবহার করতে পারেন। যে কোনও ফলের রস দিয়ে টোনিং করতে পারেন। বাড়িতে কোনও না কোনও ফল থাকেই। তরমুজ, শসা, আনারস বা ডাবের জল থাকলে তা টোনার হিসেবে লাগিয়ে ফেলুন। কেয়ার টোটকা, ‘রাতে ত্বক পরিষ্কার করে যে কোনও নাইট ক্রিম ত্বক অনুযায়ী লাগিয়ে নিন। ধীরে ধীরে ত্বকের গঠন পরিবর্তন হতে শুরু করবে। এই অভ্যাস তৈরি হলে তবেই ফেসিয়ালের উপকারিতা উপলব্ধি করতে পারবেন।’
মাসাজ
টোনিংয়ের পর মাসাজ করতে হবে। ফেসিয়ালের অন্যতম ধাপ মাসাজ। বিভিন্ন ঘরোয়া উপকরণের সাহায্যে বাড়িতেই একটা ক্রিম তৈরি করুন। কেয়া জানালেন, এই মাসাজ ক্রিম তৈরির জন্য লাগবে ২০ গ্রাম দই। পাকা পেঁপে ১০ গ্রাম। সাধারণ মাখন ৫ গ্রাম। সব উপকরণ একসঙ্গে ফেটিয়ে মিশিয়ে নিন। এর মধ্যে এক চামচ মধু দিন। ক্রিমের মতো উপকরণ তৈরি হবে। কেউ চাইলে এর মধ্যে অ্যালোভেরা দিতে পারেন। ত্বক ডিহাইড্রেট থাকলে অ্যালোভেরা যোগ করুন। এই মিশ্রণ দিয়ে এবার মাসাজ করতে হবে। শুষ্ক ত্বকে ১৫-২০ মিনিট মাসাজ হবে মুখে। গলা, পিঠ, হাতেও মাসাজ করতে পারেন। সাধারণ ত্বকে ১০-১৫ মিনিট মাসাজ করুন। তৈলাক্ত ত্বকে মাত্র ৫ মিনিট মাসাজ করুন। তৈলাক্ত ত্বক হলে উপকরণের মধ্যে মাখন রাখবেন না। কারণ মুখে এমনিই তেল আছে। ফলে আলাদা করে আর মাখন দিতে হবে না। 
ঘরোয়া প্যাক
প্যাকের জন্য কেওলিন (সাদা মাটি) পাউডারের কথা বললেন কেয়া। কারণ এর মধ্যে নানা রকমের ভিটামিন এবং মিনারেল রয়েছে। যা ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে মূলতানি পাউডার মিশিয়ে নিন। আরও ভালো ফল পাওয়ার জন্য এর মধ্যে যষ্টি মধুর (মূলাতি) পাউডারও দিতে পারেন। তিনটে উপকরণ সমপরিমাণে দুধ, জল বা ডাবের জলের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। প্রথমে উষ্ণ গরম জল। তারপর জলে ধুয়ে ফেলুন। 
শেষ ধাপে বরফ
ঘরোয়া ফেসিয়ালের শেষ ধাপে এক টুকরো বরফ মুশকিল আসান হতে পারে। সেই বরফের টুকরোটা গোলাপ জল দিয়ে বানাতে পারেন। যে কোনও ত্বকেই ব্যবহার করতে পারেন এই বরফ। কেয়া জানালেন, শুধুমাত্র ত্বকে ব্রণ থাকলে ওই বরফের টুকরো নিমপাতা জলে ভিজিয়ে রেখে তৈরি করুন। কেয়ার কথায়, ‘ফেসিয়াল করার পর সেদিন আর বাইরে না বেরনোই ভালো। কাজ সেরে বাড়ি ফিরে রাতের দিকে ফেসিয়াল করুন। তারপর ঘুমিয়ে পড়ুন।’ 
কেয়া মনে করিয়ে দিলেন, ত্বক প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। কারণ মুখ থেকে তেল বেরয়। দূষণে ক্ষতি হয়। আবার মেকআপেও ধুলো জমে। রূপ বিশেষজ্ঞ স্পষ্ট বলেন, ‘ফেসিয়ালের জন্য ত্বক তৈরি করতে হয়। না হলে কোনও লাভ হবে না।’

Advertisement

স্বরলিপি ভট্টাচার্য  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ