Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আসানসোলে নব্যদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে, শমীকে ভরসা পদ্মের আদিদের বঞ্চনা ভুলে নামতে চান ভোট-সমরে

শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হতেই বিজেপির মঞ্চে জেলা সভাপতির সঙ্গে প্রথম সারিতে ছিলেন আদি নেতারা।

আসানসোলে নব্যদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে, শমীকে ভরসা পদ্মের আদিদের বঞ্চনা ভুলে নামতে চান ভোট-সমরে
  • ৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হতেই বিজেপির মঞ্চে জেলা সভাপতির সঙ্গে প্রথম সারিতে ছিলেন আদি নেতারা। নব্যদের ঠাঁ‌‌ই হয়নি প্রথম সারিতে। রবিবার আসানসোলে বিজেপির জেলা পার্টি অফিসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে এই দৃশ্য জেলা রাজনীতিতে রীতিমতো সাড়া ফেলেছে। শমীকবাবু রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর কী এবার পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও আদিরা গুরুত্ব পেতে চলেছেন, এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। এতে স্বাভাবিকভাবেই দল বদলু নব্য বিজেপি নেতাদের রক্তচাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আদি বিজেপি নেতারা রাজ্য সভাপতির সাক্ষাৎ প্রার্থী হয়েছেন। এতেই আদি-নব্য দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পাচ্ছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে।

Advertisement

আসানসোলের আদি বিজেপি নেতা বিবেকানন্দ ভট্টাচার্য বর্তমানে বিজেপির স্টেট এগজিকিউটিভ কমিটির সদস্য। বিগত বেশ কয়েক বছর দলের কর্মসূচিতে তাঁকে প্রথম সারিতে দেখা যায়নি। এদিন কিন্তু ছিলেন জেলা সভাপতির সঙ্গে প্রথম সারিতে। তিনি বলেন, বিগত তিন বিজেপি জেলা সভাপতি আমাদের যোগ্য মর্যাদা দেননি। বিজেপির আদি নেতা-কর্মীরা কার্যত ঘরে বসে গিয়েছিলেন। এদিন আমাদের বিশেষভাবে আমন্ত্রণ করে আনা হয়। নতুন জেলা সভাপতি এবার মর্যাদা দিলেন। আমরা অনুরোধ করেছি, নতুন যে জেলা কমিটি হবে, তাতে যেন আদি ও নব্য দু’পক্ষের সদস্য থাকেন। আমরা রাজ্য সভাপতির সঙ্গে দেখা করে আসানসোলের বিষয় জানাব।
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসানসোল লোকসভা আসন সিপিএমের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। ২০১৯ সালেও আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে জয়লাভ করে বিজেপি। তখন থেকেই আসানসোল বিজেপি শক্ত গড় হিসেবেই বিবেচিত হয়। ২০১৯ আগে পর্যন্ত বিজেপিতে দল বদলের হিড়িক পড়েনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন শাসক দলের বহু নেতা কর্মী।  বাদ যায়নি আসানসোলও। নব্যরা দলে যোগদানের পরপরই ছড়ি ঘোরাতে শুরু করেন। পুরনোরা কার্যত হারিয়ে যেতে থাকেন। তা নিয়ে আদিদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। তাঁদের কোণঠাসা করে রাখার কথা রাজ্য নেতৃত্বের নজরে আনলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি বলে অভিযোগ। 
শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হতেই যেন উলটপুরাণ শুরু হয়েছে। শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে বহু আদি নেতাকে গাড়ি পাঠিয়ে বাড়ি থেকে পার্টি অফিস আনা হয়। তাঁদের সামনে রেখেই মূল অনুষ্ঠান হয়, যা বিজেপির সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন বললে ভুল হবে না। 
বিজেপির জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, নতুন রাজ্য সভাপতি নিয়োগের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই। আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তাঁরাই সামনের সারিতে থাকবেন যাঁরা পদ বা ক্ষমতা পাওয়ার লোভে পার্টি করেননি। তাঁদের সম্মান দিয়েই দল পরিচালনা করতে হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ