নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভরা বর্ষাতেও চলছে কয়লা লুট। বাড়তি রোজগারের নেশায় ভঙ্গুর খাদানে কয়লা কাটতে নেমে পড়ছেন দরিদ্র শ্রমিকরা। কয়লার চাঙড় ধসে মৃত্যু হচ্ছে একের পর এক। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে আসছে কুলটি থানা এলাকা থেকে। বড়িরা, দামাগোড়িয়া, সবনপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা কয়লা লুটের মুক্তাঞ্চল। অন্য বছর বর্ষা কালে কয়লা লুট বন্ধ থাকত। এবার বর্ষাকালেও সেই লুট অব্যাহত। ঝুকির এই কারবারে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বেশি। টাকা দিয়ে পরিবারের লোকদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। তারপরই শুরু হচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা বিসিসিএলের অভিযানের নামে আইওয়াশ। তাঁরা দুর্ঘটনার এক দু’দিন পর কয়েকটি র্যাটহোল ভরিয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখার চেষ্টায় মরিয়া।
অভিযোগ উঠছে, সোমবার কুলটি থানার বড়িরায় কয়লা খাদানে একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে অবৈধ ভাবে বিসিসিএলের ওসিপি থেকে কয়লা কাটা হচ্ছিল। তখনই উপরের চাঙড় ধসে অনেকে চাপা পড়ে যান। তারমধ্যে একজনের বাড়ি কুলটির লালগঞ্জের বাউরি পাড়ার। ঘটনার পরই পুরো বিষয়টি নিয়ে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দা মনোতোষ মুখোপাধ্যায় ওরফে মনু দা। তৃণমূল কর্মী ফেসবুক লাইভ করে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কয়লা মাফিয়ারা গরিব মানুষকে বর্ষাতেও কয়লা চুরি করতে খাদানে নামাচ্ছে। সোমবার একজন লালগঞ্জের বাসিন্দা কয়লা চাপা পড়ে মারা যান। স্থানীয় প্রশাসন কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমি এক ফোনে অভিষেককে ফোন করে অভিযোগ করেছি।’
এই ঘটনা নতুন নয়, কয়েক মাস আগেই এখানে কয়লা চুরি করতে গিয়ে মারা গিয়েছিলেন কুলটির কেন্দুয়া বাজারের এক বাসিন্দা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই কয়লা লুট হয়। যার নিয়ন্ত্রণ করছে আসানসোলের কল্যাণপুরের জনৈক মিশ্র। এখন এই কারবারে অন্যতম নিয়ন্ত্রক কুলটির এক বাসন ব্যবসায়ী। কী ভাবে চলে কারবার? জানা গিয়েছে, বিসিসিএলের খাদান থেকে কয়লা লুট করে সাইকেল বাইকে করে স্থানীয় অবৈধ কয়লা ডিপোগুলিতে মজুত হচ্ছে। সেখান থেকে ট্রাক্টরে করে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে থাকা একটি ফ্যাক্টরিতে যাচ্ছে। বিসিসিএলের ওসিপির পাশাপাশি এলাকায় অবৈধ খাদ করেও কয়লা লুট হচ্ছে। বৃষ্টিপাত বন্ধ হতেই সেই খাদগুলিতে জল মারার কাজ চলছে। যাতে পুজোর আগেই আরও বেশি সংখ্যক অবৈধ খাদান থেকে কয়লা লুট করা যায়।
অভিযোগ, এতবড় লুটের কারবার চললেও বিসিসিএল কর্তৃপক্ষ, সিআইএসএফ, পুলিস কিছুই দেখতে পায় না! বড় ঘটনা ঘটার পর অভিযানে নামে বিসিসিএল কর্তৃপক্ষ। বুধবারও আইওয়াশে নেমেছিল তাঁরা। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দামাগোড়িয়ার কয়েকটি র্যাটহোল আর্থ মুভার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করেনি।
কুলটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বড়িরা, দামাগোড়িয়া এলাকার বিজেপির প্রভাব রয়েছে। তারা কেন্দ্রীয় সংস্থার সাহায্যে এই কারবারকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।’ কুলটির বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘কয়লা চুরি করাচ্ছিল বলে বিসিসিএলের আধিকারিকদের সরিয়ে দিয়েছিলাম। ফের এই ঘটনা ঘটলে আমি আমার সরব হব।’ এসিপি জাভেদ হোসেন বলেন, ‘কোনও শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ রুজু হয়নি।’ বিসিসিএলের সংশ্লিষ্ট এরিয়ার জিএম শশীভূষণ কুমারকে ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।