নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা চিন্তা বাড়াচ্ছে অণ্ডালের। জনবহুল এলাকায় অণ্ডাল বিমানবন্দর। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে প্রচুর ভাগাড় রয়েছে আশপাশে। সেই সব জায়গায় কাক-শকুনের অবাধ বিচরণ। অণ্ডালের আকাশে প্রায়শই তাদের উড়ে বেড়াতে দেখা যায়। আমেদাবাদ দুর্ঘটনায় এরকম কোনও পাখির আঘাত বোয়িং ড্রিমলাইনারের দু’টি ইঞ্জিনকেই অকেজো করে দিয়েছিল কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। তদন্তেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে, সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে অণ্ডাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকে একাধিকবার বিষয়টি উঠে এসেছে। এবার পাখিদের নিয়ে আরও বেশি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে চাইছে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন। এলাকায় আবর্জনা পরিষ্কার নিয়ে বাড়তি উদ্যোগ নিয়েছেন ব্লক প্রশাসনের কর্তারা। বাসিন্দাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মৃত পশু যেন যত্রতত্র না ফেলা হয়।
অণ্ডাল বিমানবন্দরের অধিকর্তা কৈলাস মণ্ডল বলেন, ‘বিমানবন্দর চত্বরকে পাখি মুক্ত করা সম্ভব নয়। আমরা এক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও এলাকাবাসীকে সচেতন করতে পারি। সেটাই করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনতা করছে। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সবরকম নির্দেশিকা মেনেই বিমানবন্দরে নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সদা সতর্ক রয়েছি।’অণ্ডালের বিডিও দেবাঞ্জন দত্ত বলেন,‘বিমানবন্দরের আশপাশে যাতে কোনওভাবেই যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা না হয়, তা নিয়ে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। আবর্জনা সাফাইয়ের উপর বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে।’
দক্ষিণবঙ্গের একমাত্র অসামরিক বিমানবন্দর অণ্ডাল। এখান থেকে দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ,বেঙ্গালুরু,চেন্নাই, ভুবনেশ্বর, গুয়াহাটি, বাগডোগরা সর্বত্র বিমান পরিষেবা রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি বিমান ওঠানামা করে। এছাড়াও ভিআইপিদের সফরেও অণ্ডাল বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এই বিমানবন্দরকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন। স্বাভাবিকভাবেই অণ্ডাল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে। উদ্বেগও ছড়িয়েছে। বিমানবন্দরের আদূরে নির্মাণ হওয়া বহুতল থেকে পাখির সমস্যা আলোচনায় উঠে এসেছে। পাখির সমস্যা মেটাতে পরিচ্ছন্নতা ও মানুষের সচেতন করার জোর দিয়েছে জেলা প্রশাসন। মানুষকে সচেতন করতে বিডিও নিজে দাঁড়িয়ে থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করাচ্ছেন। অভিজ্ঞ মহলের দাবি, বিমানবন্দর আশপাশের এলাকায় আবর্জনা পরিষ্কার রাখলেই পাখির সমস্যা অনেকটাই কমবে। বহুতল নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে বাড়তও নজর রাখছে এডিডিএ। ডিজিসিএ (ডিরেক্টর জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন)-এর নির্দেশ যাতে কঠোরভাবে পালন করা হয়, সেদিকে সতর্ক আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ। -নিজস্ব চিত্র