তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: বিহারের পাটনা থেকে ধৃত ডাকাত দলের সদস্য ইমরাম রাজাকে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি থানায় নিয়ে আসে পুলিস। আজ, শুক্রবার তাকে শিলিগুড়ি আদালতে তুলে পুলিস ফের নিজেদের হেফাজতে নেবে। এর মাধ্যমে আরও কয়েকজন দুষ্কৃতীকে ট্র্যাক করা হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে সবরকম পদক্ষেপ করছে পুলিস।
গত ২২ জুন শিলিগুড়ি শহরের হিলকার্ট রোডের জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট আটজন দুষ্কৃতী ধরা পড়েছে। আগে ধরা পড়া সাত দুষ্কৃতীর মাঝে ইমরানকেও মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে বাকিরা জেল হেফাজতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং।
ডিসিপি বলেন, আমরা ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করব। যাদের ইতিমধ্যে ধরা হয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে আরও তথ্য জোগাড় করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, শহরের কোথাও কোনও দুষ্কৃতী দল ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে কি না, তা দেখতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
হিলকার্ট রোডে ডাকাতির পর ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতী দল ধরতে অতিরিক্ত সতর্ক হয়েছে পুলিস। ডাকাতি ও চম্পাসারিতে এটিএম লুটের ঘটনায় ভিনরাজ্যের দলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। সেই কারণে বাইরে থেকে কে আসছে, কোথায় থাকছে, দলগতভাবে কোথাও কেউ ভাড়া নিয়ে থাকছে কি না, সেদিকেও নজর রাখছে পুলিস। সম্প্রতি সোনার অলঙ্কার পরিষ্কার করে দেওয়ার নামে প্রতারণা করা হয়। আশিঘর ফাঁড়ির পুলিস সেক্ষেত্রে বিহারের দলের যোগ পায়। এরপর এনজেপি থানার সাহায্যে পুলিস রাজা হোলি থেকে বিহারের একটি দুষ্কৃতী দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে জানা যায় বিহার সহ একাধিক রাজ্যে প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়েছিল ওই দলের সদস্যরা। একইভাবে একাধিক ঘটনা ঘটিয়ে বারবার জায়গা বদল করে তারা। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয়েছে সোনার গয়না। এরপরেই শহরের একাধিক এলাকা, মূলত নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কুখ্যাত অপরাধী দল রয়েছে কি না তা জানতে বাড়তি নজরদারি রাখছে পুলিস। বছর দু’য়েক আগে শিলিগুড়ি সংলগ্ন মাটিগাড়ায় গাড়ির শোরুমে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছিল মধ্যপ্রদেশের গ্যাং। এই গ্যাংয়ের সদস্যরাও এনজেপি এলাকায় থাকত। এই সকল বিষয়কে সামনে রেখে ভিনরাজ্যের কোনও মানুষের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই পুলিস খতিয়ে দেখছে।
গত সোমবার রাতেও ফুলবাড়ি এলাকায় দুই ব্যক্তিকে একটি ভিনরাজ্যের কাদামাখা নম্বরের গাড়ি সহ আটক করে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিস। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় দু’জন গাড়ির চালক ছিলেন। রাতে আচমকা পুলিস দেখে তাঁরা ভয় পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। সেই কারণেই পুলিসের নজরে পড়েছিলেন তাঁরা। যদিও পুলিসের দাবি, সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই আটক করা হবে।