নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: দুঃস্থ শিশুদের সাহায্য ও ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার নামে ভুয়ো রসিদ দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়িতে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, জলপাইগুড়ির সংস্থার নামে দাবি করে হলুদ রঙের ওই রসিদে যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, আদতে সেটি খড়্গপুরের এক মহিলার! ওই মহিলা খড়্গপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাফাইকর্মীর কাজ করেন। তাঁর স্বামী ধুলাগড়ে একটি কারখানার কর্মী। গোটা বিষয়টি জানার পর তাঁরা রীতিমতো হতবাক। তাঁর মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে রসিদ ছাপিয়ে কে বা কারা কেন টাকা তুলছে, সেসবের কিছুই জানা নেই বলে দাবি ওই মহিলার।
সোমবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে খড়্গপুরের ওই মহিলা বলেন, শুধু জলপাইগুড়ি নয়, মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকা থেকেও আমার কাছে রোজ অনেক ফোন আসছে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের সাহায্যের নাম করে রসিদ দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রসিদে আমার মোবাইল নম্বর রয়েছে। কেউ আবার বলছেন, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া হয়েছে। আমি তো এসবের বিন্দুবিসর্গ জানি না। বাধ্য হয়ে খড়্গপুর থানার পুলিসকে বিষয়টি জানিয়েছি। ওই মহিলা বলেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, গ্যাসের কানেকশন সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আমার মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করা। ফলে এই নম্বরটি বন্ধ করে দিতে পারছি না। কিন্তু সারাদিন অবাঞ্ছিত ফোনের ঠেলায় বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি।
ওই সংস্থার ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হয়েছে জলপাইগুড়ি সদরের জমিদারপাড়ার বাসিন্দা ধ্রুবজ্যোতি রায়ের পরিবার। শিলিগুড়িতে একটি ওষুধের দোকানে কাজ করেন ধ্রুবজ্যোতি। তাঁর অভিযোগ, রবিবার তিনি কাজে চলে যাওয়ার পর তাঁদের বাড়িতে কয়েকজন আসে। ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও দুঃস্থ শিশুদের সাহায্যের নাম করে তাঁর বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাঁচশো টাকা নিয়ে যায়। বিনিময়ে সংস্থার নামে একটি রসিদ দিয়ে যায় তারা। সঙ্গে বলে যায়, ২২-২৪ মার্চ পর্যন্ত জলপাইগুড়ির রবীন্দ্রভবনে অনুষ্ঠান চলছে তাদের সংস্থার। বাবা-মা চাইলে ওই অনুষ্ঠান দেখতে যেতে পারেন। কিন্তু খোঁজ করতেই দেখা যায়, গোটা বিষয়টিই ভুয়ো। অভিযুক্ত সংস্থার নামে ২২-২৪ মার্চ অডিটোরিয়াম বুকিং ছিল না বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি রবীন্দ্রভবনের অফিস ইনচার্জ সঞ্জয় ঘোষ।
সোমবার বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন ধ্রুবজ্যোতি। যদিও তাঁর দাবি, পুলিস অভিযোগ নেয়নি। তিনি বলেন, রবিবার রাতে বাড়ি ফেরার পর মা আমাকে বিষয়টি জানায়। তারপর রসিদ দেখায়। সেখানে একটি মোবাইল নম্বর দেখে ফোন করি। ফোনটি খড়্গপুরের এক মহিলা রিসিভ করে জানান, এমন ফোন তিনি আরও পেয়েছেন। কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
জলপাইগুড়ির অন্য এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এক সদস্য বলেন, মাস চারেক আগে অভিযুক্ত ওই সংস্থা শহরের চার নম্বর ঘুমটি এলাকায় একইভাবে আমাদের পরিচিত একজনের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে যায়। তারপর এনিয়ে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতন করি শহরের মানুষকে।