Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লাভপুরের হাতিয়ায় বিস্ফোরণ কাণ্ড, বাঁকুড়ার ইন্দাস থেকে অন্যতম অভিযুক্ত ধৃত

লাভপুরের হাতিয়া বিস্ফোরণ কাণ্ডে অন্যতম মূল অভিযুক্ত শেখ মহিউদ্দিন অবশেষে পুলিসের জালে ধরা পড়ল।

লাভপুরের হাতিয়ায় বিস্ফোরণ কাণ্ড, বাঁকুড়ার ইন্দাস থেকে অন্যতম অভিযুক্ত ধৃত
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: লাভপুরের হাতিয়া বিস্ফোরণ কাণ্ডে অন্যতম মূল অভিযুক্ত শেখ মহিউদ্দিন অবশেষে পুলিসের জালে ধরা পড়ল। মঙ্গলবার ভোরে বাঁকুড়ার ইন্দাস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে লাভপুর থানার পুলিস। নকল সোনার কয়েনের কারবারিদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই দু’জন মারা যাওয়ার পরই হাতিয়া গ্রাম থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল মহিউদ্দিন। এরপর সে বিভিন্ন জায়গায় গা-ঢাকা দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তবে শেষরক্ষা হল না। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বাঁকুড়ার ইন্দাসের স্থানীয় পুলিসের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে ধরা হয়। মঙ্গলবারই তাকে জেলায় এনে বোলপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাকে ছ’দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী ফিরোজ পাল।

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত ২০জুন রাতে গ্রাম দখলকে কেন্দ্র করে লাভপুরের হাতিয়ায় নকল সোনার কয়েনের কারবারিদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও বোমাবাজি হয়। দীর্ঘদিন ধরে শেখ এক গোষ্ঠীর সঙ্গে মহিউদ্দিনের গোষ্ঠীর বিবাদ চলছিল। মাস চারেক আগে ওই গোষ্ঠীর চাপে মহিউদ্দিন গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। ঘটনার রাতে সে ফের গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করলে বাধা দেয় বাদলের অনুগামীরা। সেই উত্তেজনার জেরে শুরু হয় ব্যাপক বোমাবাজি। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বাদল গোষ্ঠীর কয়েকজন বোমা বাঁধার সময় পুকুরপাড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শেখ সাবের আলি ও শেখ পিয়ার ওরফে আলমগীরের। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আর এক অভিযুক্ত রাজিবুলের। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিসের দাবি। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা দেহ গোপনে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ তুলেছিলেন। এই বিস্ফোরণ কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ন’জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। কিছুদিন আগে চেন্নাই থেকে শেখ মাহাচাঁদ, শেখ ডালিম ও শেখ জহরলাল নামে তিনজনকে ট্রানজিট রিমান্ডে ধরে বোলপুর আনা হয়। তারা এই মুহূর্তে জেল হেফাজতে রয়েছে। জেলার পুলিস সুপার আমনদীপ সিং বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় নকল সোনার কয়েন কারবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এক গোষ্ঠীর মূল চক্রীকে ধরা হয়েছে। পলাতক বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান চলছে। তাদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ