নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সোমবার দুপুরে মেমারির কারকাণ্ডা মোড়ে একটি গ্যাস গোডাউনে বিস্ফোরণ হয়। বিকট আওয়াজ শুনে এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পাঁচ থেকে সাতটি গ্যাস সিলিন্ডার পরপর বিস্ফোরণ হয়। আগুনের শিখা বহু দূর থেকে দেখা যায়। সাতগেছিয়া ফাঁড়ির পুলিস এবং দমকল কর্মীরা বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দোকানের কয়েকজন কর্মী জখম হয়েছেন। পুলিস পৌঁছনোর আগে তাঁদের তড়িঘড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই দোকানে ছোট সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে বিক্রি করা হতো। গোডাউন থেকে তিনশোর বেশি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। অতিরিক্ত পুলিস সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওই গোডাউনের মালিককে ডাকা হয়েছে। নথি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।
জেলার বাসিন্দারা বলেন, এধরনের অবৈধ গ্যাস গোডাউন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে। বড় সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের করে তা বিক্রি করা হয়। রিফিল করার সময়ই দুর্ঘটনা হয়। এর আগে বর্ধমান শহরেও অবৈধ দোকানে বিস্ফোরণ হয়েছিল। ‘ডিইবি’র নজরদারির অভাব থাকার কারণেই তাদের বাড়বাড়ন্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ। মেমারির ওই গোডাউন মালিকও বহুদিন ধরেই প্রকশ্যে ব্যবসা করছিল। বিস্ফোরণে গোডাউনের একটা বড় অংশ উড়ে গিয়েছে। সে কোথা থেকে গ্যাস সিলিন্ডার গুলি আনত তা পুলিস তদন্ত করে দেখছে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, গোডাউনে বিভিন্ন সংস্থার সিলিন্ডার মজুত করা হয়েছিল। এলাকার অনেকেই তার কাছে থেকে সিলিন্ডার নিয়ে যেত। ওই গোডাউনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। সেকারণে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কোনও সংস্থা গোডাউন করার অনুমতি দিলে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে। সেখানে কত সিলিন্ডার মজুত করা যাবে সেই নির্দেশও তারা দেয়। এছাড়া গোডাউনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। এই গোডাউনে কোনও নিয়ম মানা হয়নি।