Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ঢাকার মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, ভাঙল শ্রেণিকক্ষ, পড়াশোনার আড়ালে মজুত বোমা, বড়ো নাশকতার ছক?

ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সংলগ্ন কেরানিগঞ্জ। শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানিগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ ঘটে

ঢাকার মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, ভাঙল শ্রেণিকক্ষ, পড়াশোনার আড়ালে মজুত বোমা, বড়ো নাশকতার ছক?
  • ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঢাকা: ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সংলগ্ন কেরানিগঞ্জ। শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানিগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ ঘটে। তীব্রতায় ভেঙে পড়ে মাদ্রাসার একাধিক ঘরের দেওয়াল। ক্ষতি হয়েছে আশপাশের বাড়িরও। গুরুতর আহত মাদ্রাসার পরিচালক, তাঁর স্ত্রী ও দুই নাবালক সন্তান। আর ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাদ্রাসায় পড়াশোনার আড়ালে তৈরি হচ্ছিল বোমা। এর জন্য প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক, বোমা তৈরির নানা সরঞ্জাম মজুত করা হয়েছিল। সেখানেই বিস্ফোরণ হয়। ওই মাদ্রাসাটিতে অন্তত ৫০ জন পড়াশোনা করে। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় কোনও পড়ুয়া ঘটনার সময় ছিল না। তার জন্যই কারও প্রাণহানি হয়নি বলে মনে করছে পুলিশ। তবে কীভাবে জনবহুল এলাকায় বোমা তৈরি হচ্ছিল, তা নিয়ে পুলিশ কোনও জবাব দিতে পারেনি। কিছুদিন আগেই ওসমান হাদির খুনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেই উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কমেনি। বিশৃঙ্খলার আবহে কি ভোট বানচাল করতে বাংলাদেশে বড়ো নাশকতার ছক কষছে মৌলবাদীরা? আর তার জন্য ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মাদ্রাসাকে? মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের পর এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Advertisement


দক্ষিণ কেরানিগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে ওই মাদ্রাসাটি চলত। ওই বাড়িরই অন্য অংশে মাদ্রাসার পরিচালক ৩২ বছর বয়সি শেখ আল আমিন তাঁর পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। বাড়ির মালিক মালিক পারভিন বেগম জানিয়েছেন, তিন বছর আগে মুফতি হারুন নামে এক ব্যক্তি ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসা চালু করেন। পরে হারুন তাঁর শ্যালককে মাদ্রাসা পরিচালনার ভার দেন। কিন্তু মাদ্রাসার আড়ালে কী চলছে, তা তিনি জানতেন না বলে দাবি পারভিনের।
হাসনাবাদ এলাকার এক বাসিন্দা বলেছেন, ‘শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বিকট শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। দেখি, মাদ্রাসার দুটি ঘরের সব দেওয়াল ভেঙে পড়েছে। ছাদ ও বিমও ফেটে গিয়েছে। পাশের দুটি ঘরের দেওয়ালেও ফাটল ধরেছে।’ জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি বাড়ি ফেরার সময় বিস্ফোরণ হয়। একটা ইট ছিটকে আমার মাথায় লাগে। আঘাতে অজ্ঞান হয়ে যাই।’ পুলিশ জানিয়েছে, ক্লাসরুমেই প্রচুর বিস্ফোরক জড়ো করা হয়েছিল। কারা এই ঘটনায় জড়িত, তার সন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে ঢাকার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দক্ষিণ কেরানিগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, ‘বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল কাজ করছে। অভিযান চলছে।’  ভেঙে পড়েছে মাদ্রাসার ঘর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ