Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাবা ঋণ না মেটানোয় ছেলেকে আটকে রাখলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা, অভিযোগ

রামপুরহাটে বাবার ঋণের টাকা না মেটানোয় ছেলেকে মারধর করে অন্ধকার ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিসের চাপে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর ওই যুবককে থানায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

বাবা ঋণ না মেটানোয় ছেলেকে আটকে রাখলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা, অভিযোগ
  • ২২ জুন, ২০২৫ ১৫:০৬
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটে বাবার ঋণের টাকা না মেটানোয় ছেলেকে মারধর করে অন্ধকার ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিসের চাপে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর ওই যুবককে থানায় পৌঁছে দেওয়া হয়। ঘটনায় রামপুরহাটের আয়াস গ্রাম পঞ্চায়েতের দাদপুর গ্রামের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওই যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দাদপুর লাগোয়া মল্লিকপুরের বাসিন্দা বাগবুল শেখ ধানের ব্যবসা করতেন। গতবছর দাদপুর গ্রামের বাসিন্দা তৃণমৃলের আয়াস অঞ্চলের প্রাক্তন সভাপতি আকবর আলমের কাছ থেকে দু’ লক্ষ টাকার ধান নিয়েছিলেন। তিনি সেই টাকা শোধ করেননি। টাকা মেটানোর জন্য আকবর সাহেব চাপ দিতে থাকেন। চাপ সহ্য করতে না পরে গত ৩০ মার্চ থেকে নিখোঁজ হয়ে যান বাগবুল সাহেব। তাঁর ছেলে ইউসুফ পারভেজ ইসলাম কলকাতায় কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন। মা অনেক আগেই মার গিয়েছে। বাবা দেনার দায়ে নিখোঁজ।  ইউসুফ জানান, সম্পত্তি বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে শুক্রবার রাত ৮টা নাগাদ খুড়তুতো দাদার সঙ্গে আকবর সাহেবের বাড়ি যাই। কিন্তু, দু’লক্ষ টাকার বদলে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গিয়েছি শুনে তিনি রেগে যান। এরপর আমার দাদার হাত মুচড়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে বলেন, পরিবারের লোকজনকে ডেকে নিয়ে আয়। এরপর লাইট, ফ্যান বন্ধ করে আমাকে একটি ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। আমার শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। দাদা গিয়ে বাড়িতে খবর দেয়।  ইউসুফের কাকা সেরাজুল ইসলাম বলেন, আকবর সাহেবর অনুগামীদের মাধ্যমে ভাইপোকে ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানাই। তা সত্ত্বেও ভাইপোকে না ছাড়ায় রাত দেড়টা নাগাদ রামপুরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করি। এরপরই পুলিসের চাপে রাত ২টো নাগাদ ইউসুফকে থানায় পৌঁছে দেয়। তিনি বলেন, ভাইপো এতটাই অপমানিত হয়েছে যে কারও সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলছে না। যদি কিছু অঘটন ঘটিয়ে বসে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।  এনিয়ে অভিযুক্ত আকবর সাহেব বলেন, ওকে ঘরে আটকে রাখা হয়নি। একটি জায়গায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল। বলেছিলাম, অভিভাবকদের ডাক। টাকা মেটানোর পর যাবি। অভিভাবকরা না আসায় ওই যুবককে থানায় দিয়ে আসি। উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ গত ৩১আগস্ট আকবর সাহেবকে ছয় বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও দুদিন আগেই তৃণমূলের দলীয় কর্মসূচিতে নেতৃত্বদের সঙ্গে তাঁর বসে থাকার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভা‌ইরাল হয়েছে। এব্যাপারে তৃণমূলের জেলা চেয়ারপার্সন তথা রামপুরহাটের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি প্রশাসন দেখবে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ