সংবাদদাতা, দিনহাটা: ৭৫ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোসানিমারি হাইস্কুলের খেলার মাঠ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। দিনহাটা-১ ব্লকের অন্তর্গত গোসানিমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এই বিদ্যালয় বহু প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদের জন্ম দিয়েছে। এই বিদ্যালয়ের ছাত্ররা সুব্রত কাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে-এমন নজিরও রয়েছে। অথচ, সেই সোনালি স্মৃতি বিজড়িত সুবিশাল মাঠ আজ দখলদারদের কবলে পড়ে একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন।
বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের চারপাশে নেই কোনও সীমানা প্রাচীর। ফলে সহজেই দখলদারদের নিশানায় পড়েছে মাঠটি। স্থানীয় এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী খেলার মাঠটিকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। কোথাও গাড়ি ভর্তি বালু-পাথর ফেলে রীতিমতো ব্যবসা ফেঁদে বসেছে একাংশ উঠতি কারবারি। আবার কোথাও গজিয়ে উঠছে চায়ের দোকান, কাঠের শেড কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসার ছাউনিওয়ালা ঘর। এই আগ্রাসনের ফলে দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে মাঠের আয়তন। এতে চরম সমস্যায় পড়ছে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে এলাকাবাসী ও স্থানীয় ক্রীড়াবিদরা।
বিদ্যালয়ের টিফিন টাইমে পড়ুয়ারা এখন আর স্বাচ্ছন্দ্যে খেলাধুলো করতে পারে না। এমনকী বিকেলে স্থানীয় ক্রীড়াবিদরাও আর অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছেন না আগের মতো। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (টিআইসি) দীপককুমার অধিকারী বলেন, চারপাশে সীমানা প্রাচীর না থাকার কারণেই আজ এই অবস্থা। বহুবার আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি যেন একটি শক্তপোক্ত প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্ররা একাধিকবার সুব্রত কাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু এখন মাঠে বালু-পাথর জমা করে রাখায় তাদের অনুশীলনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ শুধু বিদ্যালয়েরই নয়, এটি গোটা পঞ্চায়েত ও ব্লক এলাকার এক ঐতিহ্যবাহী সম্পদ। বহু গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট- যেমন পঞ্চায়েত স্তরের ফুটবল লিগ, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, স্থানীয় অনুষ্ঠান এই মাঠে বহু বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে এসেছে। এখন সেই ঐতিহ্য হারানোর পথে। কোচবিহার জেলা পরিষদের সদস্য শ্রাবণী ঝা বলেন, ৭৫ বছরের পুরনো এই মাঠটি শুধু একটি স্কুলের নয়। গোটা এলাকার গর্ব। এই মাঠটি রক্ষা করতে আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি। জেলা পরিষদের তরফে বিষয়টি শিক্ষাদপ্তরকে জানানো হয়েছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বিষয়ে ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্থানীয় ক্রীড়াবিদ, প্রাক্তন ছাত্র এবং অভিভাবক মহলের তরফে দাবি উঠেছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের। প্রয়োজনে জনস্বার্থে আইনি পদক্ষেপের কথাও ভাবা হচ্ছে। কারণ এটি শুধু একটি খেলার মাঠ নয়-এটি গোটা প্রজন্মের স্বপ্নের সোপান, যেটি অবহেলায় আজ বিপন্ন। নিজস্ব চিত্র।