Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

‘থিয়েটার ছাড়া বাঁচতেই পারব না’

সদ্য কলকাতায় এসেছিলেন বলিউড অভিনেতা মনোজ পাহওয়া। একান্ত সাক্ষাৎকারে ভাগ করে নিলেন নানা কথা।

‘থিয়েটার ছাড়া বাঁচতেই পারব না’
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সদ্য কলকাতায় এসেছিলেন বলিউড অভিনেতা মনোজ পাহওয়া। একান্ত সাক্ষাৎকারে ভাগ করে নিলেন নানা কথা।

Advertisement

অভিনেতার কোনো গোত্র হয় না। তা সত্ত্বেও দর্শক আপনাকে ভালোবাসে কমেডি অ্যাক্টর হিসেবেই। আপনি খুশি?

  • দেখুন প্রতিটি মানুষের মধ্যেই সেন্স অব হিউমার থাকা উচিত। আমি মনে করি মানুষের হাসিটা খুব জরুরি। একের সমস্যা অন্যের কাছে তামাসা মনে হতেই পারে। সমস্যার মধ্যেও হাসির খোরাক খুঁজে নেওয়াটাই তো প্রকৃত জীবনবোধ। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আমি ঘোরতর সমস্যার মধ্যেও হাসতে ভালোবাসি। হাসাতেও ভালোবাসি। আসলে আমাদের এখানে কী হয় জানেন, যে চরিত্রে আপনি যেই একবার দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করে ফেললেন, প্রযোজক-পরিচালকরা সেই ধরনের চরিত্রেই আপনাকে দিতে থাকবে। এর মধ্যে কোনো ভুল নেই।

তবুও এই কমেডিয়ানের ইমেজের পাশাপাশি গভীর মনস্তাত্বিক চরিত্রেও অভিনয় করেছেন...

  • হ্যাঁ করেছি তো। এই ‘আসি’তেই এক দায়িত্বশীল, সংবেদনশীল বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছি। এর আগে ‘মুলক’, ‘আর্টিকেল ফিফটিন’— এই রকম বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছি, যেগুলো তথাকথিত সিরিয়াস চরিত্র।

‘আসি’র চরিত্রটা বেছে নেওয়ার কারণ?

  • চরিত্র নির্বাচনে আমার চেয়ে পরিচালকের পছন্দই বেশি কাজ করে। আমি দেখি ছবিতে আমার চরিত্রের অবদান কতখানি। সিনেমা তো শেষ পর্যন্ত বিনোদন। তার মধ্যেও যে চরিত্রে মানবিক মূল্যবোধ আছে, সেটা ফুটিয়ে তোলাই চ্যালেঞ্জের। আনন্দের। 

সিনেমার সদর্থক বার্তা কি আদৌ সমাজ সংস্কারে সহায়ক হয়?

  • আমি বলব, সমাজে বার্তাটা পৌঁছনো খুব জরুরি। ছবিটা দেখে মানুষ একবার অন্তত ভাবুক। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে নিজের মামলা নিজে লড়ে দেশ, জাতির সামনে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন। এই ঘটনা নিয়ে সিনেমা হলে, নারীর ক্ষমতায়নের এই বার্তাটা ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। নতুন প্রজন্মের মেয়েরা উদ্বুদ্ধ হবে। 

আপনি মূলত মঞ্চের মানুষ। সিনেমা, সিরিজের ব্যস্ততার মধ্যে মঞ্চে সময় দিতে পারেন?

  • হ্যাঁ... হ্যাঁ... থিয়েটার ছাড়া বাঁচতেই পারব না। আমি এখন মর্ফলি থিয়েটার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। দলের প্রাণপুরুষ নাসিরুদ্দিন শাহ। এখন ওঁর সঙ্গে আমি মঞ্চে অভিনয় করছি। আর আমার ছেলে, মেয়ের তৈরি দল পোপল প্রোডাকশনেও কাজ করছি। 

কলকাতাকে কেমন লাগে? 

  • আমার অভিনয় জীবনের শুরুর দিকের একটা গল্প শোনাই। সম্ভবত ১৯৮২-৮৩ সাল হবে। দিল্লির দিশান্তর থিয়েটার গ্রুপে অভিনয় করি। দলের পরিচালক ছিলেন রঞ্জিত কাপুর। তখন তিনটি নাটক নিয়ে আমরা কলকাতায় এসেছিলাম। ওই তিনটি নাটকের চারটে করে শো করেছিলাম। একদিনে দুটো শো। দুপুর ৩টে আর সন্ধে সাড়ে ছটায়। আমি আজও ভুলিনি, প্রতিটি শো ছিল হাউসফুল। দর্শকরা সিট না পেয়ে মেঝেতে বসে নাটক দেখেছিলেন। সেদিন বুঝেছিলাম থিয়েটার কী বস্তু আর কলকাতাকে কেন সংস্কৃতির রাজধানী বলা হয়। 

কলকাতার মিষ্টির প্রেমে পড়েছেন নিশ্চয়ই?

  • (হাসি) মুম্বইতে থাকি। কিন্তু আমার ডায়েটে রোজ কলকাতার সন্দেশ, মিষ্টি দই, রসগোল্লা, ছানার পায়েস মাস্ট।
    প্রিয়ব্রত দত্ত
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ