সংবাদদাতা, মানকর: অতিবৃষ্টিতে বুদবুদের কসবা, মানা এলাকার ফুলচাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চাষ করে লাভের মুখ দেখা তো দূরস্ত, চাষের খরচই উঠবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে চাষিরা। এদিকে পুজোর মরশুম আসতেই বাজারে এক লাফে বেড়ে গিয়েছে ফুলের দাম। এমন চলতে থাকলে উৎসবের এই মরশুমে ফুলের দাম আকাশছোঁয়া হবে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা। ফুল ব্যবসায়ীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে।
শীতকালীন ফুল হিসেবে পরিচিত হলেও সারা বছরই গাঁদার চাহিদা থাকে। কসবা মানা এলাকায় দামোদর নদের ধারে বছরের বেশির ভাগ সময় গাঁদার চাষ হয়। অন্যান্য খাদ্যশস্যের পাশাপাশি এই ফুলের চাষ করে আয়ের মুখ দেখেন বাসিন্দারা। কিন্তু এবছর বেশ কয়েক দফার বৃষ্টির দাপটে ফুল চাষ মার খেয়েছে বলে চাষিদের দাবি। তাঁরা জানান, ভারী বৃষ্টি গাঁদা চাষে সমস্যা তৈরি করে। বৃষ্টির জল গাঁদা ফুলের পাপড়ির ভিতর ঢুকে যায়। ফলে ফুল দ্রুত পচে যায়। তাছাড়া ফুলে দাগ ধরে যায়। তখন সেই ফুল আর কেউ কিনতে চায় না। স্থানীয় চাষি কাঞ্চন মণ্ডল বলেন, খামখেয়ালি প্রকৃতির জন্য আমার ১৫ কাঠা জমির ফুল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সার, বীজের দাম বেড়েছে। তাই চাষ করে লাভ তো হলই না, উল্টে খরচও উঠল না। চাষিরা জানান, লাল, হলুদ গাঁদার চাষই বেশি হয় বুদবুদ এলাকায়। তাছাড়া চেরি গাঁদার চাষও হয়। গাছের যত্ন নিয়ে তাঁরা বলেন, ফুলে যাতে দাগ না আসে সেজন্য কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। শক্তভাবে ফুল ধরে থাকার জন্য আলাদা ওষুধ রয়েছে। এক বিঘা জমিতে ওষুধ, শ্রমিক সবেমিলে গড়ে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বুদবুদের এক স্থানীয় চাষি বলেন, আগে একশো টাকায় হাজার চারা পাওয়া যেত। এখন সেই চারা কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় চারশো টাকা। তাছাড়া সারের দামও বেড়েছে। বুদবুদের চাষিরা মূলত দুর্গাপুরের বাজারে ফুল বেচেন। এদিন পানাগড়, মানকরের বাজারগুলিতে খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে এক কুড়ি গাঁদার মালার দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। মানকরের ফুল ব্যবসায়ী শ্রীকান্ত হাজারি বলেন, বাজার এখন থেকেই চড়া। সামনেই বিশ্বকর্মা পুজো। আমরাও চিন্তায় রয়েছি। এভাবে চললে বিশ্বকর্মা পুজোতেই দাম বাড়বে। মার খাবে ব্যবসা। বুদবুদের একটি ক্লাবের দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তা রূপম ভৌমিকের কথায়, ফুলের বাজার যে ভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে, তাতে পুজোর সময় কী হবে বুঝতে পারছি না।-নিজস্ব চিত্র