Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাধ্যমিক শেষের আনন্দে উচ্ছৃঙ্খলতা প্রশ্ন ও বই ছিঁড়ে ফেলল পরীক্ষার্থীরা

শেষ হল জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। সেই আনন্দে মাধ্যমিকের শেষ দিনে রাস্তাজুড়ে পরীক্ষার্থীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের দেখল ডোমকলবাসী।

মাধ্যমিক শেষের আনন্দে উচ্ছৃঙ্খলতা প্রশ্ন ও বই ছিঁড়ে ফেলল পরীক্ষার্থীরা
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: শেষ হল জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। সেই আনন্দে মাধ্যমিকের শেষ দিনে রাস্তাজুড়ে পরীক্ষার্থীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের দেখল ডোমকলবাসী। রঘুনাথগঞ্জ, সূতি, সামশেরগঞ্জে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে আনন্দের নামে বই, খাতা, টুকলির মাইক্রো জেরক্স, এমনকী প্রশ্নপত্র ছিঁড়ে রাস্তায় উড়িয়ে দিতে দেখা গেল একশ্রেণির পরীক্ষার্থীদের। চারচাকা গাড়ি যেতে দেখলে সেগুলি লক্ষ্য করে অদ্ভুত শব্দ করতে থাকে তারা। ছেঁড়া কাগজে ঢেকে গেল ডোমকল মহকুমার রাস্তাঘাট। আনন্দের প্রকাশের নামে ‘জেন-জি’র এই আচরণে স্তম্ভিত শিক্ষামহল। উঠেছে সমালোচনার ঝড়। ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ সাধারণ মানুষের মধ্যেও।প্রসঙ্গত, গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল মাধ্যমিক পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁস রুখতে পর্ষদের তরফে প্রশ্নপত্রে বসানো হয়েছিল বিশেষ কিউআর কোড। পর্ষদের এই উদ্যোগে প্রশ্নফাঁসে লাগাম টানা গেলেও, নকল যে রোখা যায়নি তা রাস্তায় পড়ে থাকা ছেঁড়া মাইক্রো জেরক্সের কাগজ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে।বুধবার ছিল জীবনবিজ্ঞান পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার কিছু পরীক্ষার্থীর ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা রয়েছে। এদিন পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে চারচাকা গাড়িতে বাড়ি ফেরার পথে নকলের জেরক্স কাগজ ছিঁড়ে রাস্তায় উড়িয়ে উল্লাস করতে দেখা যায় বহু পরীক্ষার্থীকে। কোথাও আবার গোটা বইয়ের পাতা ছিঁড়ে কুচিকুচি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয় রাস্তায়। 
শুধু টুকলি কিংবা বই নয়, নোটবুক থেকে প্রশ্নপত্র বাদ গেল না কিছুই। বুধবার ডোমকল মহকুমার প্রায় সর্বত্রই এমন ছবি ধরা পড়ে। সহপাঠীদের উচ্ছৃঙ্খলাকে ক্যামেরা বন্দি করে  রিল বানাতেও দেখা গেল বেশকিছু পরীক্ষার্থীকে।

Advertisement


শিক্ষামহলের একাংশের দাবি, পরীক্ষার সঙ্গে লুকিয়ে-চুরিয়ে টুকলি করার বিষয়টি বহুকাল থেকেই জড়িয়ে রয়েছে। তবে এতদিন তা আড়ালে আবডালেই তা করা হতো। অন্তত বছর কয়েক আগেও পরীক্ষা শেষের দিনে বই-খাতা বা প্রশ্নপত্র ছিঁড়ে ফেলার মতো দৃশ্য চোখে পড়ত না। একসময় মাধ্যমিক পরীক্ষা মানেই ছিল জীবনের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যতের প্রথম দরজা টপকানো। শিক্ষার্থীদের মনে থাকত একধরনের ভীতি ও সম্ভ্রম। বছর কয়েক আগেও পরীক্ষা শেষে অনেকেই তাঁদের পুরোনো বই জুনিয়রদের হাতে তুলে দিতেন। অথচ মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বদলে গিয়েছে ছবিটা। বই দেওয়া তো দূরের কথা, এখন যেন পরীক্ষা শেষে বই ছিঁড়তেই স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছে জেন-জির একাংশ।
নবিপুর সরলাবালা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মৌসুমী  রায় বলেন, পরীক্ষা শেষের আনন্দ চিরকালই ছিল, কিন্তু এখন তার প্রকাশভঙ্গি উদ্বেগজনক। উচ্ছ্বাসের নামে বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বই, প্রশ্নপত্র ছিঁড়ে ফেলা শিক্ষার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন। এই প্রবণতা শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা ভবিষ্যতে বড় সামাজিক সমস্যার রূপ নিতে পারে। শুধুমাত্র নম্বর নয়, শিক্ষার আসল তাৎপর্য বোঝাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ