Bartaman Logo
৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সালারে রেলবস্তিতে উচ্ছেদের নোটিস

সালার রেলবস্তিতে উচ্ছেদের নোটিস জারি, ১৫ দিনের মধ্যে দোকান সরাতে নির্দেশ। বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

সালারে রেলবস্তিতে উচ্ছেদের নোটিস
  • ৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: কেউ ঝুপড়ির মধ্যে কাটিয়ে ফেলেছেন জীবনের ২০টা বছর, কেউ আবার তারও বেশি। তবে এবার তাঁদের ঝুপড়ি বা কুঁড়েঘর ছাড়তে হবে। কারণ, শুক্রবার রেল পুলিশের পক্ষ থেকে সালার স্টেশন সংলগ্ন এলাকার রেলবস্তি উচ্ছেদের নোটিস ধরানো হয়েছে। ১৫দিনের মধ্যে পূর্ব রেলের কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার সালার স্টেশন সংলগ্ন এলাকার শতাধিক দোকানও সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার পরই চলবে উচ্ছেদ অভিযান।

Advertisement

এদিন সাত সকালে রেল পুলিশের পক্ষ থেকে জবরদখলকারীদের উচ্ছেদের নোটিস ধরানো হয়। প্রথমেই ফুটপথ থাকা দোকানদারদের নোটিস বিলি করা হয়। যেসব দোকান বন্ধ ছিল সেগুলির দেওয়ালে নোটিস সেঁটে দেওয়া হয়েছে। সালার স্টেশন থেকে ১ নম্বর লেবেল ক্রসিং পর্যন্ত ফুটপাথে থাকা ব্যবসায়ীদের নোটিস ধরায় রেলপুলিশ। এরপর রেল সবজি ও মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের নোটিস ধরায়। পরে রেলবস্তিতে উচ্ছেদ নোটিস বিলি করা হয়। ওই বস্তিতে অন্তত ৩৫টি পরিবার বসবাস করেন।  
ওই বস্তির বাসিন্দা বৃদ্ধা আজাহার বিবি বলেন, এই বয়সেও পরের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে দু’বেলা খেতে পাই। ঘর ভেঙে দিলে কোথায় যাব জানি না। মাবিয়া বিবি কয়েকবছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। এখন ঝুপড়িতে একাই থাকেন। তিনি বলেন, ভিক্ষা করে দিন চলে। তাই ঘর ভাড়া নিতে পারব না। উচ্ছেদের পর গাছতলা ঠাঁই নিতে হবে। নাজমা খাতুন বলেন, এই বস্তিতে কেউ ২০ বছর, কেউ বা ৪০ বছর ধরে রয়েছেন। এই প্রথম আমরা উচ্ছেদের নোটিস পেলাম। ১৫ দিন পর কোথায় দাঁড়াব জানি না। আজিজ শেখ বলেন, এই বস্তিতেই আমার জন্ম। এখানকার কুঁড়ে ঘরে থেকেই মহাজনের কাছে ঋণ করে টোটো কিনেছি। সেই রোজগারে সংসারের চারজনের খাবার যোগাড় হয়। তাই উচ্ছেদের আগে পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করলে এতগুলি পরিবার অসহায় হয়ে পড়ত না।
এদিন নোটিস জারির পরই রেলবস্তির বাসিন্দারা কোথায় যাবেন, কী করবেন তাঁরা কিছুই বুঝতে পারছেন না। কারণ বহু বছরের তাঁদের সুখ দুঃখের স্মৃতি এই বস্তির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
তবে দোকান উচ্ছেদের ঘটনা এর আগেও একাধিকবার ঘটেছে। ফল বিক্রেতা ইকবাল শেখ বলেন, এর আগে কয়েকবার উচ্ছেদ হয়েছে। তবে কয়েকমাস যেতে না যেতেই ফের এই জায়গা দখল হয়েছিল। কিন্তু এবার যে তার পুনরাবৃত্তি হবে না, রাজ্যের সাম্প্রতিক ঘটনা তারই প্রমাণ দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, এই দুর্দিনে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে তাঁরা পাশে পাচ্ছেন না। সেজন্য প্রতিবাদের পথে যাওয়ার সাহসও পাচ্ছেন না। অনেকেই নিজে থেকে সরে যেতে রাজি হয়েছেন। তবে নিরুপায় কিছু ব্যবসায়ী শেষ মুহূর্ত অবধি অপেক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ