Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বাধীনতা সংগ্রামীরা আসতেন মিষ্টি খেতে, মেদিনীপুরে পচু ময়রার দোকানে আজও সন্দেশ মেলে এক টাকায়

রাস্তার ধারে ছোট্ট মিষ্টির দোকান। একসময়ে সেই মিষ্টির দোকানেই ভিড় জমাতেন স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সাফল্য এলে ওই দোকানের মিষ্টিতেই হতো মিষ্টিমুখ।

স্বাধীনতা সংগ্রামীরা আসতেন মিষ্টি খেতে, মেদিনীপুরে পচু ময়রার দোকানে আজও সন্দেশ মেলে এক টাকায়
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: রাস্তার ধারে ছোট্ট মিষ্টির দোকান। একসময়ে সেই মিষ্টির দোকানেই ভিড় জমাতেন স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সাফল্য এলে ওই দোকানের মিষ্টিতেই হতো মিষ্টিমুখ। দিন বদলেছে, কিন্তু বহু বছর ধরে মিষ্টির দাম একই রয়েছে। আজও মাত্র এক টাকায় মেলে সন্দেশ, লাড্ডু। সাইজে ছোট হলেও সেই মিষ্টি কিনতে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ। এ কাহিনি মেদিনীপুর শহরের কর্নেলগোলা এলাকার পচু ময়রার।তাঁর দোকানের কোনও নির্দিষ্ট নাম নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, শুধু ১ টাকা নয়, ২ টাকা, ৩ টাকা দামের সন্দেশ, লাড্ডুও পাওয়া যায়। যেখানে মেদিনীপুর শহরের বেশিরভাগ দোকানে মিষ্টির দাম ১০ টাকা থেকে শুরু। সেখানে একমাত্র ব্রিটিশ আমলের এই দোকানেই সস্তায় মিষ্টি পাওয়া যায়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ পচু ময়ারর দোকানেইমিষ্টি কিনতে আসেন। বিভিন্ন পুজোর দিনে দোকানের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়।

Advertisement

এদিন দোকানে বসে মিষ্টি তৈরির কাজ করছিলেন সুজিত কুণ্ডু। তিনি বলেন, ঠাকুরদা আশুতোষ কুণ্ডুর সময় থেকেই মিষ্টির দোকান রয়েছে। বহু বছর ধরে মানুষ মিষ্টি কিনছেন। তাঁদের কথা ভেবেই দাম বাড়ানো হয়নি। এক টাকায় সন্দেশ হয়তো আর কোথাও পাওয়া যায়না। তবে বর্তমানে মিষ্টি তৈরির উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এরফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পুজোর সময়ে লাইন দিয়ে মানুষ মিষ্টি কেনেন। সকলের পক্ষে বড় দোকান থেকে দামি মিষ্টি কেনা সম্ভব নয়। প্রসঙ্গত, একসময় মেদিনীপুর শহর ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আঁতুড়ঘর। এই মাটি বহু বিপ্লবীর জন্ম দিয়েছে। এই শহরের অলিগলিতে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। সেই ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছেশহরের বুকে অবস্থিত কর্নেলগোলার নাম। সেই কর্নেলগোলার মোড় সংলগ্ন এলাকাতেই পচু ময়রার দোকান। আজও কাঠের আলমারিতে মিষ্টি রাখা হয়। জরাজীর্ণ পুরনো টিনের চালের ঘরে বসেই মিষ্টি তৈরির কাজ করা হয়। কুণ্ডুবাড়ির এক সদস্যের কথায়, আগে এক আনায় ৩টি মিষ্টি দেওয়া হতো। এই দোকানে দাম সব সময় কম। এমনকী ৫০ পয়সাতেও মিষ্টি বিক্রি হয়েছে। তবে প্রায় ২০ বছর ধরে ১ টাকায় মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে।
এদিন দোকানে মিষ্টি কিনতে এসেছিলেন চিরপ্রিয় অধিকারী। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে এই দোকান থেকে মিষ্টি নিচ্ছি। পুরনো দিনের স্বাদের আজও পরিবর্তন হয়নি। পুজোর সময় এই দোকানে খুব ভিড় হয়। রাত জেগে মিষ্টি তৈরির করেন কুণ্ডুবাড়ির ব্যবসায়ীরা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ