Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতাতেই ডাইনোসরের জীবাশ্ম থাকলেও সুযোগ নেই দেখার, যেতে হয় সুদূর হায়দরাবাদ! সারা দেশে রয়েছে ২টি

১৬ কোটি বছর আগের (জুরাসিক এজ) ডাইনোসোরের জীবাশ্ম (পূর্ণাঙ্গ অবয়ব) রয়েছে দেশের মাত্র দু’টি জায়গায়। হায়দরাবাদের বিড়লা মিউজিয়ামে এবং কলকাতা।

কলকাতাতেই ডাইনোসরের জীবাশ্ম থাকলেও সুযোগ নেই দেখার, যেতে হয় সুদূর হায়দরাবাদ! সারা দেশে রয়েছে ২টি
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: ১৬ কোটি বছর আগের (জুরাসিক এজ) ডাইনোসোরের জীবাশ্ম (পূর্ণাঙ্গ অবয়ব) রয়েছে দেশের মাত্র দু’টি জায়গায়। হায়দরাবাদের বিড়লা মিউজিয়ামে এবং কলকাতা। বরানগরে অবস্থিত ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের (আইএসআই) সদর দপ্তরে রয়েছে সেটি। বিড়লা মিউজিয়ামে টিকিট কেটে যে কেউ সহজেই এই প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর পূর্ণাবয়ব কাঠামো দেখতে পান। কিন্তু আইএসআ‌ই’র প্ল্যাটিনাম জুবিলি অডিটোরিয়াম ভবনের নীচের তলায় রাখা ডাইনোসোর ‘বারাপাসাউরাস টেগোরি’র প্রায় ৫০ ফুট দীর্ঘ কাঠামোটি সামনে গিয়ে দেখার কোনও সহজ সুযোগ সাধারণের জন্য নেই। দেখতে গেলে আইএসআই কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। প্রসঙ্গত, আইএসআই’র জিওলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই ডাইনোসর ছা‌ড়া আরও বেশ কিছু প্রাগৈতিহাসিক নমুনা রয়েছে। 

Advertisement

এখানকার জিওলজি বিভাগের অধ্যাপক শিলাদ্রিশেখর দাস জানিয়েছেন, এটি দেখার জন্য তাঁদের ই-মেইল করতে হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ নানা সংস্থা  থেকে অনুরোধ আসে। গবেষণামূলক কাজের জন্য অনেককে অনুমতি দেওয়া হয়। তাছাড়া বিভিন্ন সম্মেলন-ওয়ার্কশপে যোগ দিতে আসা দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদ, অধ্যাপকরা অনেকেই দেখতে চান। তাঁর দাবি, কেউ দেখতে চেয়েছেন কিন্তু অনুমতি পাননি, এমনটা হয় না। কিন্তু সাধারণ মানুষ সহজে সেই সুযোগ পাবেন, এরকম ব্যবস্থা চালু হয়নি কেন? অধ্যাপক দাস বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে আইএসআই কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আইএসআই কেন্দ্রীয় সরকারের স্ট্যাটিসটিক্স অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টশন মন্ত্রকের অধীনস্থ একটি সংস্থা। মন্ত্রক অনুমতি দিলে তবেই এটা করা যাবে।’ 
আইএসআই সূত্রে খবর, সাধারণ মানুষের ডাইনোসর দর্শনের ব্যবস্থা কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে আগেও চিন্তাভাবনা হয়েছে। এখনও বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিবেচনার মধ্যেই রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্নতত্ত্ব ও সংস্কৃতি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রদর্শনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা যায় কি না, ভাবা হচ্ছে। তাছাড়া, সাধারণ মানুষের জন্য ডাইনোসোর দেখার সুষ্ঠু ব্যবস্থা করতে গেলে বিশেষ কর্মী লাগবে। এখন সেরকম কিছু নেই। জানা গিয়েছে, আইএসআইতে আগে একটি মিউজিয়াম ছিল। সেখানে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের ব্যবহৃত সামগ্রী সংরক্ষিত আছে। কিন্তু মিউজিয়াম যে ভবনে ছিল, গত কয়েক বছর ধরে সেটির সংস্কার চলছে। সেখানকার কিছু সামগ্রী এখন গ্রন্থাগার ভবনে এনে রাখা হয়েছে। বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এলে সেখানে তাঁদের এসব দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।
আইএসআইতে থাকা ডাইনোসরের এই ফসিল অন্ধ্রপ্রদেশ-মহারাষ্ট্র সীমানাবর্তী এলাকায় মাটি খুঁড়ে আবিষ্কার করা হয়েছিল।  ১৯৫৭-৬১ সাল পর্যন্ত এই কাজ চলে। হায়দরাবাদের মিউজিয়ামে যে ‘কোটাসরাস’ ডাইনোসরের জীবাশ্ম কাঠামো আছে, সেটিও কাছাকাছি এলাকা থেকে প্রায় একই সময়ে পাওয়া যায়। আইএসআই’র জিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষকদের থেকে জানা গিয়েছে, ওই জায়গায় যে মোট ছ’টি ডাইনোসোর ছিল। এর মধ্যে ‘বারাপাসাউরাস টেগোরি’টি ছিল মাঝবয়সি। শাকাহারি এই ডাইনোসরের কাঠামোর ৬০ শতাংশ ফসিল পাওয়া সম্ভব হয়েছিল। দেহের বাকি অংশের কাঠামো অন্য ডাইনোসরগুলির ফসিল দেখে তৈরি করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়েছে। এই কাজ করতে সময় লেগেছিল ১০ বছরের বেশি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ