নিজস্ব প্রতিনিধি, গড়বেতা: মেঘলা আকাশ। মাঝে মধ্যেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি। দুর্যোগ শেষ হয়েও যেন হচ্ছে না! সেই বৃষ্টি মাথায় নিয়েই রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ। কারণ, পেট বড় বালাই।
নিজস্ব প্রতিনিধি, গড়বেতা: মেঘলা আকাশ। মাঝে মধ্যেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি। দুর্যোগ শেষ হয়েও যেন হচ্ছে না! সেই বৃষ্টি মাথায় নিয়েই রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ। কারণ, পেট বড় বালাই।
দু’দিনের নাগাড়ে বৃষ্টি ও নদীর জলে প্লাবিত হয়ে গড়বেতা -১ ব্লকের বিভিন্ন এলাকা। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন বহু মানুষ। কারও বাড়িতে এখনও উনুন জ্বলেনি। পেটে খিদে সবার। তাই, ত্রাণের গাড়ি পৌঁছতেই ভিড় জমে রাস্তার মোড়ে মোড়ে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পাঁউরুটি নিলেন সকলেই। একটা পাঁউরুটিতে হাতে পেতেই মুখে হাসি আট থেকে আশির।
গড়বেতা-১ ব্লকের বেনাচাপড়া, কেউটেরা সহ একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কাঁচাবাড়ি। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, বহু ঘরে দু’দিন ধরে রান্নাঅ হয়নি। ত্রাণের উপরেই নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে। মুড়ি খেয়ে কাটাতে হচ্ছে। সকাল থেকে অনেকের খাবার জোটেনি। পাঁউরুটি পেতে স্বস্তি মিলেছে। বেশকিছু এলাকায় পানীয় জলের সমস্যাও রয়েছে। এদিন কেউটেরা এলাকায় দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত জেলা শাসক (জেলা পরিষদ) শ্রীনিবাস ভ্যাঙ্কত্রা বলেন, ‘গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। কোথায়, কত পরিমাণ ক্ষতি হল, তা দেখা হচ্ছে। সমস্যার কথা শুনলেই এলাকায় গিয়ে সমাধান করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
এদিন, গড়বেতা-১ ব্লকের ঠাকুরানিতলাতে দাঁড়িয়ে পাঁউরুটি দিচ্ছিলেন জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পাঁউরুটি, মুড়ি মানুষের জন্য এনেছি। আচমকা প্রাকৃতিক দূর্যোগে মানুষকে খুবই সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আগে বহু মানুষকে ত্রিপল দিয়েছি। এখন যতটা বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে আচমকা শিলাবতী নদীর জল বাড়তে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গড়বেতা-১ ব্লকের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১১টি পঞ্চায়েত এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। বাদ যায়নি গড়বেতা-২ ব্লকও। এই ব্লকেরও তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিন গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, রাতে জল ঢুকতে শুরু করেছিল। ভোর রাতে বহু মানুষ কোমর সমান জল পেরিয়ে স্থানীয় স্কুলে আশ্রয় নেয়। প্রশাসনের তরফে স্পিড বোর্ডের মাধ্যমে বহু মানুষকে উদ্ধার হয়। কিন্তু রান্না করার মতো সামান্য বাসনটুকুও নেই। একইসঙ্গে বহু মানুষের বাড়ির আর কোনও অস্তিত্ব নেই। গড়বেতা -১ ব্লকের বেনাচাপড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। গ্রামবাসীরা গবাধি পশুর খোঁজও পাচ্ছেন না। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি অসীম ওঝা ও গড়বেতা- ১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সেবাব্রত ঘোষ বলেন, ‘বিরোধী কোনও দলকে এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একমাত্র রাস্তায় রয়েছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই। বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ হচ্ছে।’ ঠাকুরানিতলাতে পাঁউরুটি নিচ্ছিলেন অরুন রায় ও সোনালী রায়। তাঁরা বলছিলেন, ‘খুবই কষ্টের মধ্যে রয়েছি। গ্রামে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। তাই বাড়িতে কেউ ঢুকতে পারছেন না। পাঁউরুটি, মুড়ি পেয়ে কিছুটা উপকার হল।’ তবে ত্রাণ পর্যাপ্ত নয় বলে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এখনও বহু এলাকার মানুষ ত্রাণ পাননি বলে অভিযোগ।