সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: জেলাজুড়ে বিএলওদের সঙ্গে ঘুরছেন শুধু শাসকদলের বিএলএরা। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বিরোধী দলের এজেন্টদের। বেশকিছু জায়গায় এজেন্টদের নাম খাতায় কলমেই থেকে গিয়েছে। বাস্তবে তাঁদের মাঠে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে এসআইআরকে সামনে রেখে মানুষের পাশে থাকার কাজে নেমে জনসংযোগ বাড়িয়ে নেওয়ার কাজ করছে তৃণমূল। ভোটের আগেই কার্যত বিজেপি ও অন্য বিরোধী দলগুলিকে ফাঁকা মাঠে গোল দিচ্ছে শাসক দল।
এসআইআরের কাজ শুরুর পরই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বুথগুলিতে বুথ লেভেল এজেন্ট নিয়োগ করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। এজেন্ট দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সক্রিয়ভাবে মাঠে নামাতে সমর্থ হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রাজীবলোচন সোরেন বলেন, তৃণমূলের ভোটরক্ষা কেন্দ্রের পাশাপাশি এজেন্টরাও এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সুসেন মাঝি বলেন, জেলার যে কোনও প্রান্তে খোঁজ নিয়ে দেখুন তৃণমূলের এজেন্টরাই মাঠে ঘাটে সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন। এসআইআর ও ফর্ম পূরণ সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যায় তৃণমূলের এজেন্টরাও পাশে রয়েছেন। বিজেপি বা অন্য দলের এজেন্টদের এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিজেপি বিভিন্ন বুথে এজেন্টদের নাম দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাঁদের এজেন্টদের এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলেই খোঁজ পেয়েছি। তাছাড়া জেলার প্রায় সমস্ত বুথে এজেন্টদের মাঠে নামানোর মতো সাংগঠনিক শক্তি বিজেপির নেই। বুথ লেভেল এজেন্ট ছাড়াও পঞ্চায়েতস্তরে ভোট রক্ষা শিবির ও বিধানসভাভিত্তিক শিবির থেকেও নজর রাখা হচ্ছে।
ভোটরক্ষা কেন্দ্রের বিষয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাত বলেন, ওই রকম শিবিরের কোনও প্রয়োজনই নেই। তৃণমূল এলাকায় অযথা ভয়ের পরিবেশ তৈরির জন্য এসব করার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা হবে না। কারও কোনও সমস্যা হলে বিজেপি কর্মীরাও পাশে রয়েছেন।
এজেন্টরা সক্রিয়ভাবে এলাকায় রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি জেলা বিজেপির সভাপতি। জেলা বিজেপির নেতা জয়দীপ্ত চট্টরাজ বলেন, সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে প্রথম সপ্তাহে এজেন্টরা সেভাবে যায়নি। তবে অন্য বুথ থেকে এজেন্টরা ওই এলাকাগুলিতে যাওয়া শুরু করেছেন। শহর এলাকায় বিজেপির এজেন্টরা ঠিকই যাচ্ছেন। তবে, গ্রামীণ এলাকার বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি কিছু বলতে চাননি। তবে, তৃণমূল ও বিজেপির তুলনায় অনেকটাই কম সংখ্যায় এজেন্ট দিতে পেরেছে বাম ও কংগ্রেস। রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকায় একাধিক ব্লকে কংগ্রেসের বুথ লেবেল এজেন্ট নেই। জেলার আরও একাধিক ব্লকে কংগ্রেসের বিএলএ-২ এর সংখ্যা নগন্য। রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকার এসআইআর সংক্রান্ত দায়িত্বে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা অনুপ ভকত। তিনি বলেন, রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকার মধ্যে রঘুনাথপুর শহরে এজেন্ট দেওয়া হলেও সাঁতুড়ি, নিতুড়িয়ার দিকে সংগঠন দুর্বল রয়েছে। ঠিকঠাক লোক পাওয়া যায়নি। তবে, কিছু জায়গাতে এজেন্ট দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের নেতাকর্মীরাও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা অসীম সিনহা বলেন, কতজন বিএলএ-২ নিয়োগ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করে এখনই সম্ভব নয়। যেগুলিতে বাকি রয়েছে সেখানে দেওয়ার কাজ চলছে। তবে, বামেরাও রাস্তায় রয়েছে। এজেন্ট না থাকার বিষয়টি ঠিক নয়। ময়দানে তৃণমূলের বিএলএরা। -নিজস্ব চিত্র