Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডিভাইডার উঠলেও বোজানো হয়নি গর্ত, বর্ধমানের বিসি রোড যেন মরণফাঁদ!

শহরের বেশিরভাগ রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। রাস্তা সংস্কারের ব্যাপারে পুরসভার তরফে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়।

ডিভাইডার উঠলেও বোজানো হয়নি গর্ত,  বর্ধমানের বিসি রোড যেন মরণফাঁদ!
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

গণেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান: শহরের বেশিরভাগ রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। রাস্তা সংস্কারের ব্যাপারে পুরসভার তরফে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু, তা বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় বেহাল রাস্তা দিয়েই মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এনিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ক্ষোভের বিষয়টি পুরকর্তাদের অজানা নয়। রাস্তা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ যে চরমে উঠেছে তা বুঝতে পারছেন কাউন্সিলাররাও। পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে রাস্তা মেরামতির বিষয়ে তাঁরা নিয়মিত সরব হন বলেও দাবি করেছেন কাউন্সিলাররা। বিষয়টি বুঝতে পেরে নিজের ফেসবুক পেজে রাস্তার বিষয়ে পোস্ট করেছেন পুরসভার চেয়ারম্যান। পোস্টে নানা কারণে যে রাস্তার সংস্কার করা সম্ভব হয়নি তার উল্লেখ করেছেন চেয়ারম্যান। পাশাপাশি বেশ কিছু রাস্তার সংস্কারের ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। শীঘ্রই শহরের রাস্তার হাল ফেরানোর দাবি করেছেন চেয়ারম্যান। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শহরের সব রাস্তার সংস্কার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন চেয়ারম্যান। তবে, সেই আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না বাসিন্দারা। 

Advertisement

বর্ধমান শহরের বিসি রোড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। বিসি রোডের পাশে রয়েছে স্কুল, কলেজ, ব্যাঙ্ক ও নানা প্রতিষ্ঠান। বহু মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। বোরহাট থেকে কার্জন গেট পর্যন্ত বিসি রোডের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। রাস্তার বেশিরভাগ জায়গায় পিচের আস্তরণ উঠে গিয়েছে। রাস্তার মাঝখানে থাকা ডিভাইডার তুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তৈরি হয়েছে গর্ত। শহরের লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত বিসি রোডের দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের খোসবাগান এলাকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রয়েছে সিএমওএইচ অফিস, ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের চেম্বার। প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে আসে। খোসবাগানে আরবি ঘোষ রোডের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। একই অবস্থা খোসবাগান থেকে পাওয়ার হাউস যাওয়ার জেএন রায় রোডের। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি পড়লেই গর্তে জল জমে। বর্ধমান স্টেশন থেকে জেলখানা মোড় পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড়-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পিচ উঠে পাথর বেরিয়ে যেন দাঁত বের করে রয়েছে। জেলখানা হয়ে রসিকপুরের দিকে যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ৬নম্বর ওয়ার্ডের সাধনপুর রোডের অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। পিচের আস্তরণ উঠে গিয়েছে। ৬নম্বর ওয়ার্ডের খালাসিপাড়ার রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। চেয়ারম্যানের ১১নম্বর ওয়ার্ডের বেশিরভাগ রাস্তার সংস্কার হয়েছে। বাঁকা ব্রিজ থেকে বিধানপল্লির রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। কানাইনাটশাল থেকে ডিভিসি রোডের অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় পাইপ লাইন ফেটে রাস্তায় জল জমে রয়েছে। বড়নীলপুর মোড় থেকে শালবাগান যাওয়ার রাস্তাটিও অত্যন্ত খারাপ। ২৬নম্বর ওয়ার্ডের নার্স কোয়ার্টার মোড়, মেডিক্যাল কলেজের রাস্তাটির অবস্থাও খুব খারাপ। খাজা আনোয়ার বেড় থেকে নবাববাড়ি যাওয়ার রাস্তাটিও অত্যন্ত খারাপ। বংপুর মোড় থেকে সর্বমঙ্গলা মন্দির পর্যন্ত রাস্তাটিও বেহাল। পুরসভার এক কাউন্সিলার বলেন, রাস্তা নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে আমরা সরব হই। আশ্বাস মেলে। কিন্তু, কাজ হয় না। রাস্তা সারানোর ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে। যেসব রাস্তা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার করা উচিত সেগুলি করা হয় না। অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংস্কার করা হয়। পেভার ব্লকের রাস্তা তৈরি করে বরাদ্দের বেশিরভাগ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। তাই এতদিন রাস্তার সংস্কার হয়নি। পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, বহু রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে কোনও রাস্তা খারাপ থাকবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ