Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুক স্টেশন ঝকঝকে হলেও ৮টি হল্ট স্টেশনের হাল কবে ফিরবে, প্রশ্ন যাত্রীদের

এযেন প্রদীপের আলোর নীচেই অন্ধকার! প্রায় ১০কোটি টাকা খরচে অমৃত ভারত প্রকল্পে তমলুক স্টেশনের একেবারে ভোল পাল্টে গিয়েছে।

তমলুক স্টেশন ঝকঝকে হলেও ৮টি হল্ট স্টেশনের হাল কবে ফিরবে, প্রশ্ন যাত্রীদের
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এযেন প্রদীপের আলোর নীচেই অন্ধকার! প্রায় ১০কোটি টাকা খরচে অমৃত ভারত প্রকল্পে তমলুক স্টেশনের একেবারে ভোল পাল্টে গিয়েছে। পুরনো স্টেশনের ছবির সঙ্গে যেন মেলানোই যাচ্ছে না। সন্ধ্যার পর আলোর রোশনাইয়ে স্টেশনের জৌলুস আরও কয়েকগুণ বাড়ছে। অথচ, ২১কিলোমিটার দূরে লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক হল্ট স্টেশনে টানা দু’মাস জল-কাদা পেরিয়ে স্টেশনে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। স্টেশনে যাওয়ার কোনও লিঙ্ক রোড নেই। কখনও হাঁটু আবার কখনও তার চেয়ে কিছুটা কম জল পরিয়ে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। তমলুক-দীঘা লাইনে আটটি হল্ট স্টেশনে আজও যাত্রীদের জন্য শৌচাগার নির্মাণ করা যায়নি। বেশকিছু জায়গায় পানীয় জলের ব্যবস্থাও নেই।

Advertisement

২০২৪ সালের ২৬ফেব্রুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দীঘা, হলদিয়া, মেচেদা, পাঁশকুড়া ও তমলুক স্টেশনকে অমৃতভারত স্টেশন হিসেবে গড়ার জন্য শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তমলুক, হলদিয়া এবং দীঘা স্টেশনের জন্য প্রকল্প খরচ ধরা হয় ৪০কোটি টাকা। তমলুক স্টেশন সাজানোর কাজ প্রায় শেষ। স্টেশনে হেঁটে যাতায়াতের জন্য পার্কের মাঝ বরাবর রাস্তার পাশাপাশি যানবাহন সহ ঢোকা এবং বেরনোর রাস্তা আলাদা করা হয়েছে। স্টেশনে ঢোকার মুখে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য র‌্যাম্প, তাদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার করা হয়েছে। স্টেশনের বা‌ই঩রে বড় ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বসেছে। স্টেশনের সামনের অংশের কাজও বেশ নজরকাড়া। রঙিন আলোয় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। তাই সন্ধ্যার পর আকর্ষণ আরও কয়েকগুণ বাড়ছে। অমৃতভারত স্টেশন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকায় তমলুক কিংবা হলদিয়া স্টেশন ভোল পাল্টালেও তমলুক-দীঘা লাইনে টিকরা, বাদলপুর, নাচিন্দা, আশাপূর্ণাদেবী, হেঁড়িয়া, লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক প্রভৃতি হল্ট স্টেশনের বেহাল ছবিটা বদলায়নি। যাত্রীদের জন্য শৌচাগার করা যায়নি। গাছের আড়ালে আবডালে গিয়ে যাত্রীদের প্রস্রাব করতে হয়। পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা যায়নি। স্টেশনে যাওয়ার লিঙ্ক রোড না থাকায় আরও সমস্যা। চণ্ডীপুর ব্লকের অন্তর্গত লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক স্টেশনে যাওয়ার রাস্তা দু’মাস জলের তলায়। প্যান্ট ও শাড়ি গুটিয়ে যাত্রীদের আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। পাঁশকুড়া হলদিয়া দীঘা সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সরোজ ঘড়া বলেন, দীঘা সেকশনে কোনও হল্ট স্টেশনে টয়লেটের ব্য‌বস্থা নেই। এছাড়া, বেশ কয়েকটি জায়গায় জলের ব্যবস্থা নেই। কয়েকবার অভিযোগের পর লবণ সত্যাগ্রহ স্টেশনে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হলেও অন্যত্র নেই। ওই স্টেশনে যাওয়ার রাস্তা আগস্ট মাস থেকে জলমগ্ন। এনিয়েও বেশ কয়েকবার আমরা রেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। হল্ট স্টেশনে যাতে অস্থায়ী টয়লেট বানানো হয় সেই আর্জিও জানিয়েছি। কিন্তু, আজও কার্যকর হয়নি। হলদিয়া, তমলুক, দীঘা স্টেশনের আধুনিকীকরণ এবং সৌন্দর্যায়ন হচ্ছে। সেটা ভালো উদ্যোগ। তবে, হল্ট স্টেশনের দিকেও রেল কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত। কারণ, শৌচাগার না থাকায় মহিলা যাত্রীরা ভীষণ অসুবিধায় পড়েন। তাঁরা এনিয়ে অভিযোগও করেন।
রেলের তমলুক-দীঘা সেকশনের সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার দীপককুমার শর্মা বলেন, তমলুক ও হলদিয়া স্টেশন অমৃতভারত স্টেশন হিসেবে সুন্দরভাবে সেজে ওঠছে। এখন শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে।  তমলুক স্টেশন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ