নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সুপ্রিম কোর্টের চাপে মোদি সরকার সোনালি বিবিকে বাংলাদেশ থেকে বীরভূমে ফেরালেও সুইটি বিবি সহ বাকি চারজনের এ বছর ফেরা হচ্ছে না। আদৌ ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, নাকি তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাবে, তা সুপ্রিম কোর্টকে লিখিতভাবে রিপোর্ট দেওয়া হবে বলে শুক্রবার জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। এদিন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চে চলছিল শুনানি।
রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কপিল সিবাল এবং সোনালির পিতা ভদু শেখের আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে আর্জি জানান, আরও চারজনকে একইভাবে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করেছে কেন্দ্র। বাংলাভাষী হওয়ায় তাদের বাংলাদেশি সন্দেহে দিল্লি থেকে আটক করে দেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি মোটেই ভালো নয়। তাই সোনালি বিবির সঙ্গেই পুশব্যাক করা বাকি চারজনকেও ফিরিয়ে আনা হোক। আবেদন শুনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলিকে পাশে রেখে দেশের প্রধান বিচারপতি বলেন, সোনালি বিবিকে দেশে ফেরানো হয়েছে তো? তাঁর চিকিত্সার ব্যবস্থা হয়েছে? তাঁর কী কোনও আর্থিক সাহায্য লাগবে? যদি লাগে তাহলে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে বলব, মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে আর্থিক সহায়তা করা যায় কি না দেখুন। প্রধান বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণে সম্মত হন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিবাল।
তুষার মেহতা আদালতে জানান, বাকিদের বিষয়ে আমরা একটি লিখিত নোট তৈরি করছি। আদালতকে জানাব। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারও জানায়, তারাও কিছু বক্তব্য জমা দেবে। এবং কেন্দ্র যেহেতু ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগী, তাই আপাতত আদালত অবমাননার মামলাটি নিয়ে তারা কোনও উদ্যোগ নেবে না। উভয়পক্ষকেই তাদের লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, আগামী ৬ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানি হবে।
এদিকে এদিন, বিচারাধীন বিষয়ে খবর প্রকাশ আটকানোর প্রবল চেষ্টা করেন সলিসিটর জেনারেল। যদিও দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, মিডিয়াকে পরামর্শ বা আবেদনই করতে পারি মাত্র। নির্দেশ দিতে পারি না। তাই এ ব্যাপারে আপনাকে পরামর্শ, জাস্ট ইগনোর ইট।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আটকে রয়েছেন সোনালির স্বামী দানিশ শেখ, সুইটি বিবি এবং তাঁর দুই সন্তান বছর পনেরোর কুরবান ও পাঁচ বছরের ইমাম। যা নিয়ে উদ্বেগে ভুগছেন সুইটির ষাটোর্ধ্ব মা লাজিনা বিবি ও বাবা সইদুল শেখ। মায়ের জন্য মনমরা হয়ে রয়েছে সুইটির মেজ ছেলে বছর বারোর ইমরান শেখ। এদিন সুপ্রিম কোর্ট ওই চারজনের নথিপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। স্বভাবতই হতাশ হয়ে পড়েছেন লাজিনা। তিনি বলেন, অনেক আগেই সমস্ত নথিপত্র পাঠিয়েছিলাম। সেটা দেখার পরই তো সোনালিকে ফেরানো হয়েছে। আমার মেয়ে ও নাতিদের জন্য চিন্তা হচ্ছে। আদালত এদিনই ওদের ফেরানোর নির্দেশ দেবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু তা হল না। ওরা বাংলাদেশে অন্যের বাড়িতে রয়েছে। দেশে ফেরার জন্য কাঁদছে। যার বাড়িতে ওরা রয়েছে তিনিও কতদিন ওদের রাখবেন সেই চিন্তা হচ্ছে। লাজিনা বিবি আরও বলেন, দিল্লিতে ভোটার কার্ডে সুইটির নাম ছিল। পরে দিল্লিতে নাম কেটে দেয়। অনলাইনে সার্চ করলেও খুঁজে পাচ্ছি না। কার্ডটা ছিল, কিন্তু দিল্লিতে যেখানে থাকত সেখানে আগুন লেগে সমস্ত ডকুমেন্ট পুড়ে গিয়েছে। আধারকার্ড রয়েছে। স্বামী ও আমার নাম ২০০২সালের ভোটোর তালিকায় রয়েছে। নিজস্ব চিত্র