নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: ভরা শীতে বিঘোরের বেগুন পাতে থাকবে না, এমনটা ভাবতেই পারেন না রায়গঞ্জবাসী। কিন্তু বাড়তে থাকা দামের ঠেলায় সেই বেগুন কিনতে গিয়েই থতমত খেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের বিঘোর বেগুনের প্রতি কেজি বিকোচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকায়। মোহনবাটি, স্টেশন বাজার, দেবীনগর বাজারের বিক্রেতাদের দাবি, এবছর বিঘোর বেগুনের দাম যথেষ্ট বেশি। কারণ জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই বেগুন বিঘোর থেকে অন্যত্র বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ফলে দাম চড়ে আছে অনেকটাই। পাশাপাশি বাজারে পোল্ট্রি ডিমের দামও বর্তমানে বেশ ঊর্ধ্বমুখী। একটি ডিমের দাম আট টাকা। যা নিয়ে শুধু সাধারণ ক্রেতা নয়, বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষও মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের ডিম খাওয়ানো নিয়ে চিন্তায় আছেন।
রায়গঞ্জ ব্লকের আদর্শ কমলাবাড়ি (২) প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল রায় বলেন, এক পিস পোল্ট্রি ডিমের দাম ৮ টাকা হওয়ায়, মিড ডে মিলের মেনুতে বদল আনতে হয়েছে। সাধারণ সময়ে আমরা সপ্তাহে তিন-চার দিন ডিম খাওয়ালেও এখন পড়ুয়াদের পাতে দু’দিন ডিম দিতে পারছি। ক্রেতাদের একাংশ বলছেন, আলু পেঁয়াজের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিঘোরের বেগুন, ডিম এসবের দাম যথেষ্টই বেশি। শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা পিঙ্কি দাস বলেন, ডিম বা বিঘোরের বেগুন পকেট বুঝেই কিনতে হচ্ছে।
শীতকালে রায়গঞ্জবাসীর জনপ্রিয় সবজির মধ্যে বিঘোরের বেগুন অন্যতম। সকলেই এই বিশেষ সবজিটির খোঁজ করেন। দামও থাকে নাগালের মধ্যে। কিন্তু এবার দাম অনেক বেশি রয়েছে। মোহনবাটি বাজারের সবজি বিক্রেতারা বলেন, গত বছর ভিনরাজ্যের এই বেগুন প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ৮০ টাকা ছিল। এবার চাহিদার তুলনায় জোগান কম বলে দাম বেশি। ৯০০ গ্রাম ওজনের বেগুনের প্রতি কেজির দাম খুচরো বাজারে অন্তত পক্ষে ১৭০ টাকা। আবার ৭০০ গ্রাম ওজনের বিঘোর বেগুনের প্রতি কেজি কমপক্ষে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।
বাজারে সবজি বিক্রেতাদের মধ্যে স্বপন রাজবংশী জানান, গতবার দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকলেও এবার আলু,পেঁয়াজের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। পেঁয়াজ ৩০ টাকা, আলু ১৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অন্য এক বিক্রেতা বলেন, ছোট সাইজের বেগুন ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পেয়াজকলি ও মটরশুঁটির দাম ৬০ টাকা। স্কোয়াশ ও বিট,গাজরের দামও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। শুধুমাত্র যেহেতু বিহারের বিঘোর থেকে বেগুন আসছে, তাই দামটা চড়া রয়েছে।
• নিজস্ব চিত্র।