Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শেষ এসআইআর লিস্টে নাম থাকতেও ডাক, দুশ্চিন্তায় বৃদ্ধা

২০০২ সালের ভোটের তালিকায় নাম জ্বলজ্বল করছে। নিয়ম মেনে বিএলওর কাছে এসআইআর ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছেন পুরাতন মালদহ শহরের ৬৫ বছরের বৃদ্ধা অনিমা ঝা।

শেষ এসআইআর লিস্টে নাম থাকতেও ডাক, দুশ্চিন্তায় বৃদ্ধা
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ২০০২ সালের ভোটের তালিকায় নাম জ্বলজ্বল করছে। নিয়ম মেনে বিএলওর কাছে এসআইআর ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছেন পুরাতন মালদহ শহরের ৬৫ বছরের বৃদ্ধা অনিমা ঝা। তবুও শুনানির নোটিশ পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁর ছেলে কাউন্সিলারের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। রবিবার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। এধরনের ঘটনায় শুনানিতে না গেলেও অসুবিধা নেই বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বৃদ্ধার দুশ্চিন্তা তাতে কমছে না। এদিকে, এমন ঘটনা নিয়ে বাগযুদ্ধে জড়িয়েছেন তৃণমূল ও বিজেপির নেতানেত্রীরা। তবে, মালদহের পাশাপাশি দুই দিনাজপুরে কমবেশি এরকম ঘটনা রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর। তবে, খুব বেশি দুশ্চিন্তার কারণ দেখছেন না বিএলও ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। কিন্তু কোনও কারণে বিভ্রাটের আশঙ্কা কিন্তু কমছে না। তাই দুরুদুরু বুকে কেন্দ্রে হাজির হচ্ছেন অনেকে।

Advertisement

অনিমার বাড়ি শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপল্লিতে। তিনি বর্তমানে ভোট দেন মালদহ বিধানসভার গৌড় মহাবিদ্যালয়ের ১১৮ নম্বর অংশে। শুধু তাই নয়, ২০০২ সালে একই বিধানসভায় তিনি ভোটার ছিলেন। তখন অংশ নম্বর ছিল ১৩৪। তবুও তাঁকে শুনানিতে ডাকার অভিযোগ উঠেছে। বৃদ্ধার ছেলে টোটন আক্ষেপের সুরে বলেন, আমার বাবা এবং মায়ের ২০০২ ভোটের তালিকায় নাম রয়েছে। তারও আগে থেকে ভোট দিয়ে আসছেন দু’জন। নোটিশ আসার পর মা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাঁর বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা রয়েছে। তেমন হাঁটাচলা করতে পারেন না। পাঁচমাস আগে হাসপাতালে ভর্তিও করতে হয়েছিল। অবিলম্বে বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।
এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা আইএনটিটিইউসি সভাপতি বিশ্বজিৎ হালদারও। বলেন, ওই পরিবারটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটার। বৃদ্ধা যাতে ভোট দিতে না পারেন, সেজন্য এসআইআরের নাম করে হেনস্তা এবং চক্রান্ত করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে চালাচ্ছে বিজেপি। নাহলে কেন ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকতেও শুনানিতে ডাকা হবে? 
পাল্টা পুরাতন মালদহ শহরের নগর মণ্ডলের সভাপতি তথা বিজেপির কাউন্সিলার বাসন্তী রায়ের মন্তব্য, বিজেপি সরকার চায় না সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হোক।  এসব কাজ শুধু তৃণমূলই করে থাকে।  ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে কেন হেয়ারিং হল, সেই জবাব দেবেন বিএলও। তাঁর ব্যর্থতার জন্য এমন ঘটনা। তিনি কীভাবে কাজ করেছেন, খোঁজ নেওয়া হবে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে স্থানীয় বিএলও শ্রাবণী দাস বলেন, ২০০২ তালিকায় নাম রয়েছে, এমন কিছু ভোটারের শুনানির নোটিশ এসেছে। আমি নোটিশ বিতরণ করেছিলাম। তবে রবিবার ব্লক প্রশাসন থেকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা শুনানিতে না গেলেও হবে।
মালদহ বিধানসভার ইআরও অঞ্জন চৌধুরী বলেন, হয়তো ডিজিটালি ট্র্যাক করা যায়নি। টেকনিক্যাল কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে।
উত্তর দিনাজপুর জেলায় সকাল থেকে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে সরকারি দপ্তরের বাইরে মানুষের ভিড় নজরে আসে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, আপাতত শুনানিতে ডাক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮৭২ জন ভোটার। অন্যদিকে, মালদহ জেলায় ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের ৬১ হাজার ভোটারকে ডাকা হয়েছে বলে খবর জেলা প্রশাসন সূত্রে। জেলায় ১৫টি ব্লকে প্রত্যেকটিতে তিনটি করে শুনানির ভেনু রাখা হয়েছে। সোমবার থেকে শুনানির সংখ্যা বাড়বে বলেই আশা প্রশাসনের।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ডাকা হয়েছে ৭৭ হাজার ভোটারকে। প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলার ১০টি সেন্টারে শনিবার প্রায় ৯০০ জনকে ডাকা হয়েছিল। রবিবারও সংখ্যাটা ছিল প্রায় কাছাকাছি। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ