


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বেনজির! পর্যবেক্ষণেই ইঙ্গিত ছিল। নির্দেশে মিলল সিলমোহর। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বাংলার ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের ‘এবারই’ ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। গত ১৩ এপ্রিলের শুনানির ১৩ পাতার লিখিত নির্দেশ বৃহস্পতিবার আপলোড করেছে শীর্ষ আদালত। সেখানেই দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর স্পষ্ট নির্দেশ, ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত ১৯টি ট্রাইবুনাল যাঁদের নামে ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেই ভোট দিতে পারবেন। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল। আদালতের নির্দেশ, ওই ভোটের জন্য ২১ এপ্রিল এবং একইভাবে ২৯ তারিখ ভোটের ক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।
নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নের শেষদিনই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যায়। কিন্তু এসআইআর নিয়ে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে লাগাতার তুঘলকির অভিযোগ এবং মামলার অভিঘাতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল খোদ সুপ্রিম কোর্ট। তারই রেশ টেনে ট্রাইবুনালে ছাড় পাওয়া ভোটারদের নাম ‘অতিরিক্ত তালিকা’ প্রকাশ করে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ জারি করল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ হল, সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকা এক বিশেষ ক্ষমতা, যার মাধ্যমে শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন মামলার ‘সম্পূর্ণ বিচার’ (Complete Justice) নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যে কোনো আদেশ বা ডিক্রি জারি করতে পারে বেঞ্চ। বৃহস্পতিবারের এই নির্দেশের ফলে তালিকা ‘ফ্রিজ’ হওয়া সত্ত্বেও ট্রাইবুনালের ছাড়পত্র পাওয়া ভোটাররা বাংলায় ভোট দিতে পারবেন। তবে যাঁরা ছাড়পত্র পাবেন না, বা যাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তি হবে না... তাঁরা এবার ভোট দিতে পারবেন না বলেই জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশের খবর পেয়েই উত্তরবঙ্গে প্রচারে ব্যস্ত তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘আজ আমার চেয়ে খুশি আর কেউ নেই। বিচার ব্যবস্থার জন্য গর্বিত। নিজেই নিজের আবেদনে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়েছিলাম। প্রথম থেকেই বলে আসছি, ধৈর্য ধরুন। বাতিল ভোটারদের বলছি, ট্রাইবুনালে আবেদন করুন।’ উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল মামলার শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আরজি জানিয়েছিলেন, ভোটের আগে পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যাঁদের নামে ছাড়পত্র দেবে, তাঁদের এবারই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। সুপ্রিম কোর্ট সেই আরজিই মানল।
১১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইবুনালে ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৭৪টি আবেদন জমা পড়েছে। ‘বিচারাধীন’ বাদ পড়া ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন যেমন আবেদন করেছেন, একইভাবে ‘রিভাইসড ইলেক্টোরাল রোলে’ নাম থাকা ভোটারদের একাংশকে বাদ দেওয়ার আবেদনও জমা পড়েছে। তবে নাম বাতিল করার সেই আবেদন যদি ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে তাঁরাও ভোট দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে অ্যাডজুডিকেশনের বিচারকদের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে বলে জানিয়েয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে, ভোট পর্বে রাজ্যের অফিসারদের বদলির বিরুদ্ধে মামলা হলেও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। তারা জানিয়ে দিল, এটা ভোটের সময় হয়েই থাকে। তাছাড়া সবাই তো পশ্চিমবঙ্গেরই অফিসার। আপত্তি কীসের?