Bartaman Logo
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মার্চ পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া জমির চরিত্র বদলালেও মিলবে নবান্নের স্বীকৃতি

কৃষি বা শালি জমিতে বাড়িতে তৈরি হয়ে গিয়েছে। অথচ সরকারি তথ্য ভাণ্ডারে এখনও সেই জমির চরিত্র রয়েছে গিয়েছে কৃষি বা শালি হিসাবেই

মার্চ পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া জমির চরিত্র বদলালেও মিলবে নবান্নের স্বীকৃতি
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কৃষি বা শালি জমিতে বাড়িতে তৈরি হয়ে গিয়েছে। অথচ সরকারি তথ্য ভাণ্ডারে এখনও সেই জমির চরিত্র রয়েছে গিয়েছে কৃষি বা শালি হিসাবেই। খাতায় কলমে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে জমির চরিত্র বদল না করেই, বাড়ি তৈরি ঘটনা রয়েছে বহু। যা হয়েছে মূলত শহর ঘেঁষা পঞ্চায়েত এলাকায়। এই সমস্ত জমি বা বাড়ির মালিককে সমস্যায় পড়তে হয় তাদের সম্পত্তি কেনাবেচা থেকে শুরু করে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে। এবার এই সমস্ত ক্ষেত্রে জমির চরিত্র বদলের ছাড়পত্র দিতে চলেছে নবান্ন। যাকে বলা হয় পোস্ট ফ্যাক্টো কনভার্সন। অর্থাৎ, রাজ্যের তথ্য ভান্ডারে এই সমস্ত জমির চরিত্র বদলে বাস্তু, কারখানা, ইত্যাদি করে নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে রাজ্য। 

Advertisement

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত পোস্ট ফ্যাক্টো কনভার্সন করার অনুমতি ছিল। বাড়ি তৈরির জন্য জমির চরিত্র বাস্তু হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু, একটি জমির চরিত্র বাস্তু না হলেও, সরকারি অনুমত ভিন্ন একের পর এক বাড়ি গজিয়ে উঠেছে। ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বরের পরেও এর সংখ্যা হাজারে হাজারে বলেই খবর আসে নবান্নের কাছে। তার পরেই এই বিধি শিথিলতার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। সেই ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই ধরনের ঘটনা ঘটলে, অর্থাৎ জমির চরিত্র না বদলেই নির্মাণ, তাতে পোস্ট ফ্যাক্টো কনভার্সনের ছাড়পত্র দিতে চলেছে নবান্ন। ইতিমধ্যে, ১৭ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত খসড়া প্রকাশ করে ১৫দিনের মধ্যে ওয়াকিবহাল মহলের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী মাসের শুরুর দিকেই এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হবে বলেই নবান্ন সূত্রে খবর। তবে আগের মতোই পোস্ট ফ্যাক্টো কনভার্সন করাতে গেলে খসাতে হবে গ্যাঁটের কড়ি। কিন্তু, জমির চরিত্র বদল বাবদ ফি বৃদ্ধি হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের। তবে আগের মতোই পুকুর, জলাশয় এবং জলাশয় থাকা জমির চরিত্র বদল করা যাবে না। এই আইন কোনো ভাবেই শিথিলতা দেখানো হচ্ছে না বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন রাজ্যের এক পদস্থ আধিকারিক। কারণ, ভূমি সংস্কার আইন অনুযায়ী, একমাত্র ১৯৮৫ সালের আগে কোনো পুকুর বা জলাশয় বোজানো হয়েছে, প্রমাণ করতে পারলে তবেই সেই জমির চরিত্র বদলের অনুমতি দেয় রাজ্য। 
আবার মিউটেশন-কনভার্সন ক্ষেত্রে আরও একাধিক সংস্কার আনার পরিকল্পনা করছে রাজ্য। জানা গিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট আয়তনের জমি পর্যন্ত চরিত্র বদল বা কনভার্সনের বিষয়টি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে সেই প্রস্তাব অর্থ দপ্তর প্রাথমিক ভাবে খারিজ করে  দিয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। ফলে আগামী দিনে এই নিয়ম আসে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ