সংবাদদাতা, মানকর: শীতের মরশুম এলেই মন খারাপ হয়ে যায় গলসির ভরতপুরের বাসিন্দাদের। এই সময় জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় জমলেও ফাঁকাই পড়ে থাকে ভরতপুর। অথচ কয়েক বছর আগে এখানে বহু পুরনো বৌদ্ধস্তূপ, কসবায় চাঁদ সওদাগরের শিব মন্দির, লোহার বাসরঘর ও রণডিহা ব্যারেজ নিয়ে ইকো ট্যুরিজম সেক্টর গড়ার কথা হয়েছিল। কিন্তু বছর ঘুরে গিয়েছে। কোনও কাজ হয়নি। গলসি-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি অনুপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গলসি-১ পঞ্চায়েত সমিতি চাকতেঁতুল গ্রাম পঞ্চায়েতের ভরতপুর বৌদ্ধস্তূপকে কেন্দ্র করে ইকো ট্যুরিজম সেক্টর গড়ার আবেদন রাজ্যের কাছে পাঠিয়েছিল। সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ভরতপুর এলাকার জমি ও বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান উপদেষ্টা আলাপন বন্দোপাধ্যায়। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিদর্শন করার পরে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ মনে করেছিলেন দ্রুতই মিলবে ইকো ট্যুরিজম সেক্টর গড়ার সবুজ সংকেত। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরোলেও কোনও কাজ হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৭১-৭২ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার যৌথ উদ্যোগে ভরতপুরে খননকাজ শুরু হয়। সেই সময় একটি বৌদ্ধস্তূপের খোঁজ মেলে। ভূমিস্পর্শ মুদ্রায় বুদ্ধের একাধিক মূর্তিও মিলেছিল। মনে করা হয় এই বৌদ্ধ বিহারটি উপাসনা, পূজার্চনা ও অধ্যাপনার কাজে ব্যবহার করা হত। গত বছর জানুয়ারিতে ফের খননকাজ হয়। সেই সময় নবম, দশম শতকের একাধিক স্থাপত্যের সন্ধান মেলে। একটি ঘর তার মধ্যে রয়েছে। সেই কক্ষের বাইরে একটি প্রাচীরের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। অনুমান করা হয়, সুপ্রাচীন কৃষিভিত্তিক সভ্যতার জন্ম হয়েছিল ভরতপুরে। বৌদ্ধস্তুপটি হাজার বছরেরও বেশি পুরনো বলেই অনুমান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, দু’টি রাস্তা দিয়ে ভরতপুর যাওয়া যায়। একটি পানাগড় সিলামপুর হয়ে ও অন্যটি বুদবুদের নস্করবাঁধ হয়ে। আগে দু’টি রাস্তার অবস্থা একেবারে বেহাল ছিল। মানুষের দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দু’টি রাস্তাই নতুনভাবে তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভরতপুরে উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে না ওঠায় পর্যটকরা সেখানে আসছেন না। প্রচারের অভাব থাকায় অনেকেই রণডিহায় পিকনিক করতে এসে সেখান থেকেই ফিরে যান। ভরতপুরে বৌদ্ধস্তূপ দেখতে আসেন না।
দুর্গাপুরের বাসিন্দা অঙ্কুশ মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রাচীন এই ঐতিহাসিক স্থানটি যত্নে নেই। গবাদি পশু চড়ে বেড়াচ্ছে। প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।-নিজস্ব চিত্র