নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পারাপারের সুবিধার্থে কংসাবতী নদীর উপর পাকা সেতু গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছিল। যদিও শুরুতেই সেতু নির্মাণের কাজ মুখ থুবড়ে পড়ে। সেই ঘটনার পর প্রায় দশ বছর হতে চলল। আজ পর্যন্ত পুরুলিয়া-১ ও আড়ষা ব্লকের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা কংসাবতী নদীর উপর পাকা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও উদ্যোগ নজরে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে নদীর দুই পাড়ের অগণিত মানুষ একপ্রকার ইষ্ট-নাম জপে বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের কথায়, বছরের অন্যান্য সময় বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোনওমতে চলাচল করা সম্ভব হলেও ভরা বর্ষার তা সম্ভব হয় না। ফি বছরই জলের তোড়ে সাঁকো ভেসে যায়। এবছরও বর্ষার মরশুমে একাধিক সময় সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল। প্রায় ৪০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নিরাপদে পার হতে পারলেই প্রতিমুহূর্তে পুনর্জন্ম হয়। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ওই পথে সেতু গড়ে তোলার দাবিতে আরও একবার সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা।
পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো বলেন, কংসাবতী নদীর উপর নির্দিষ্ট ওই পথে সেতু গড়ে তোলার বিষয়ে পুনরায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
পুরুলিয়া-১ ও আড়ষা ব্লকের মাঝ বরাবর বয়ে গিয়েছে কংসাবতী নদী। ওই নদী পেরিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে কাঁটাবেড়া ও বামুনডিহা গ্রামের গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় পাকা সেতু গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছিল। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের তরফে সেই কাজ হচ্ছিল। নদীর দুই প্রান্তে কাঁটাবেড়া ও বামনডিহা গ্রাম লাগোয়া এলাকায় একাধিক পিলারও গড়ে উঠেছিল। কিন্তু, তারপরই সেতু নির্মাণের কাজ থমকে যায়। সূত্রের খবর, সেতু নির্মাণের ডিপিআর অর্থাৎ ডিটেইল প্রজেক্ট রিপোর্টে বড়সড় গলদ ছিল। তার জেরেই ২০১৬ সালে সেতু নির্মাণের কাজ থমকে যায়। তারপর কংসাবতী নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। কিন্তু, পুনরায় ওই সেতু নির্মাণের কোনও উদ্যোগ আজও নজরে আসেনি।
পুরুলিয়া-১, আড়ষা, ঝালদা ব্লকের একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের বিভিন্ন কাজে প্রতিদিনই নদী পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের সুবিধার্থে স্থানীয় একদল যুবক নিজেদের পয়সা খরচ করে বাঁশের সাঁকো গড়ে তুলেছেন। যা আশেপাশের স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে গ্রামবাসীদের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে। সাঁকোর দায়িত্বে থাকা রাখাল সর্দার বলেন, বাইক চলাচলের ক্ষেত্রে ১০টাকা করে আদায় করা হয়। ওই টাকা দিয়েই বছরের বিভিন্ন সময় সাঁকো সংস্কার করা হয়। কুদাগাড়ার বাসিন্দা তরণী কুমার বলেন, আমাদের পাকা সেতুর স্বপ্ন বিশবাঁও জলে। বাঁশের সাঁকোই একমাত্র অবলম্বন হয়ে উঠেছে। ওই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে ভয় লাগে। কিন্তু, কোনও উপায় নেই। তুম্বা ঝালদার বাসিন্দা অনিত্য মাহাত বলেন, বাঁশের সাঁকো নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। তবে ওই সাঁকো খুব একটা শক্তপোক্ত নয়। ইষ্ট-নাম জপ করতে করতেই নদী পারাপার করি। বাঁশের সেতুতেই ভরসা গ্রামবাসীদের। -নিজস্ব চিত্র