সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বর্ধমানে পুকুর মানেই টাকার খনি। ছোট একটা পুকুর ভরাট করলেই কয়েক কোটি টাকা কামাই। রাতারাতি সেখানে মাথা তুলছে বহুতল। চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা স্কোয়্যার ফিটে বিক্রি হচ্ছে ফ্ল্যাট। প্রাইম লোকেশন হলে দাম আরও বেশি। সেই কারণে শহরে জলাশয় ভরাটের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এমনটাই বলছেন শহরের বাসিন্দারা। পুকুর ভরাট নিয়ে অশান্তির জেরে শনিবার রাতে বর্ধমানের ১৮নম্বর ওয়ার্ডে গুলি চলে। সেখানে এক ব্যবসায়ী পুকুর ভরাট করছিলেন বলে ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করে। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে টানাপোড়েন। শনিবার রাতে পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। এক পক্ষ শূন্যে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের তিনজন গ্রেফতার হয়েছে।
শহরের বাসিন্দারা বলেন, এক সময় শহরে পুকুরের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। তখন ফ্ল্যাটের দাম ততটা বাড়েনি। ৮-১০ বছর ধরে শহরে ফ্ল্যাট ও জমির দাম বাড়তে থাকে। শহরে অল্পকিছু এলাকায় ফাঁকা জমি রয়েছে। জমি কমতে থাকায় হাঙরদের চোখ পড়ে পুকুরের দিকে। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, বর্ধমানে নিয়ম ভাঙার খেলা চলছে। জমি হাঙররা নিয়মের তোয়াক্কা করে না। তারা সুযোগ পেলেই পুকুর ভরাট করছে। প্রথমে চারপাশে আবর্জনা ফেলছে। কেউ যাতে সন্দেহ না করে সেই কারণেই তারা এমনটা করছে। কিছুদিন পর সকালে উঠে দেখা যায়, পুকুরের অর্ধেক অংশ ভরাট হয়ে গিয়েছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, প্রভাবশালীদের হাত মাথায় না থাকলে জমি হাঙররা এতটা বেপরোয়া হতে পারত না। পুরসভা কোনও ভরাটকারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করার পর পুরসভার টনক নড়ে। অনেক সময় অভিযোগ করার পরও কোনও ফল পাওয়া যায় না। এখন শহরে পুকুরের দেখা পাওয়াই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুর ভরাট করার পর জমির চরিত্রও খাতায়-কলমে বদলে যাচ্ছে। জলাশয় ভরাট করে বহুতল তৈরি হলেও, তা বিক্রি করতে প্রোমোটারদের বেগ পেতে হয় না। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুকুর ভরাট নিয়ে শাসক দলের নেতারা সরব হয়েছিলেন। কিন্তু অন্যান্য জায়গায় তাদের তেমন প্রতিবাদ করতে কেন দেখা যায় না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গোদা সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাশয় ভরাটের কাজ এখনও চলছে। বাম আমল থেকে বাঁকা খাল ভরাট শুরু হয়েছে। শহরের পাশ দিয়ে যাওয়া একটি নদীর বড় অংশ ভরাট হয়ে গিয়েছে।
বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, আমাদেরই শহরের পুকুর বাঁচাতে হবে। না হলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা অনেক পুকুর ভরাট আটকেছি। আগামী দিনেও ভরাট বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।