নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার পর্যন্ত ছিলেন জীবিত। মঙ্গলবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই জীবিত হওয়া সত্ত্বেও হয়ে গেলেন ‘মৃত’!
রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ—সর্বত্র এমন জীবিত অথচ ভোটার তালিকায় ‘মৃতের’ একের পর এক হদিশ মিলেছে। কিন্তু তাঁরা হঠাৎ কীভাবে ‘মারা গেলেন’? দায় কার? এই সব ভোটারের দাবি, দায় নিতে হবে কমিশনকেই। তবে কমিশন কিন্তু এসব ভুলের দায় ঠেলছে বুথ লেভেল অফিসারদের উপরই। সূত্রের খবর, যেসব জায়গা থেকে এমন অভিযোগ আসছে, সেসব বুথের বিএলওদের শোকজ করা শুরু হয়েছে। বুধবার থেকেই। এদিন, এমনই অভিযোগে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১০ জন বিএলওকে শোকজ করেছে কমিশন। সেইসঙ্গে এইআরওদেরও শোকজ করা হয়েছে বলে খবর।
মঙ্গলবার খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জীবিত ভোটারদের তালিকায় মৃত দেখানোর পাশাপাশি একাধিক ভুলের অভিযোগ আসছে। কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার ৫৪ নম্বর বুথের বাসিন্দা রাজবংশী দম্পতি অশ্বিনী অধিকারী ও শিবানী অধিকারীর অভিযোগ, তাঁরা দু’জনেই ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলেন। এবং বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। অথচ খসড়া তালিকায় তাঁদের মৃত দেখানো হয়েছে। কোচবিহারের দেওয়ানহাটের বাসিন্দা আলিমান বেওয়ারও একই অভিযোগ। এছাড়াও মাথাভাঙা (১)-এর বাসিন্দা শোভা বর্মন এবং মাথাভাঙা (২)-এর বাসিন্দা কাজিমা খাতুন ও রাহুল হোসেনকে ভোটার তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে। অথচ তাঁরা জীবিত। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়াতেও মসিরদ্দিন নামে এক ষাটোর্ধ্ব ভোটারের নাম নেই খসড়া তালিকায়। বাদ পড়ার তালিকায় তাঁকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
দক্ষিবঙ্গেও একাধিক জীবিত ভোটার আপাতত ‘মৃত’। পূর্ব বর্ধমানের কালনার আমলাপুকুরের বাসিন্দা পূর্ণ সাহাকেও মৃতের তালিকায় রাখা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানিকপুরের বাসিন্দা পিন্টু দাস জীবিত। যদিও খসড়া তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। নাম গিয়েছে বাদের খাতায়। পেশায় ভ্যান চালক পিন্টু বলেন, ‘আমি আর বাবা দুজনেই ফর্ম ফিল আপ করেছিলাম। বাবার নাম খসড়া তালিকায় উঠেছে। আর আমি নাকি মৃত!’ এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ থেকে ঝাড়খণ্ডে চলে গিয়েছেন চুচুঁড়ার বাসিন্দা দেবময় ভট্টাচার্য ও তাঁর স্ত্রী। স্থানান্তরিত ভোটার হিসেবে সংশ্লিষ্ট ফর্মও পূরণ করেছিলেন। কিন্তু খসড়া তালিকা অনুযায়ী দেবময়বাবু মৃত।
শুধু জীবিত ভোটারকে মৃতের তালিকায় দেখানেই নয়, আরও একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে খসড়া তালিকায়। বাঁকুড়া শহরে ৭০ নম্বর বুথের বাসিন্দা রাজু দে’র নামের পাশে এক মহিলার ছবি ছাপা হয়েছে বলে অভিযোগ। আবার পূর্ব মেদিনীপুরের খুলনার কাসিমুদ্দিন গাজির মেয়ের নাম মহিষাদলের খসড়া ভোটার তালিকায় মনা দাস অধিকারী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
যদিও কমিশনের দাবি, বিএলওদের ভুলের কারণেই এই বিপত্তি। তার জেরে এদিন দার্জিলিং-শিলিগুড়ির একজন, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির এক, কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার তিনজন এবং হুগলির ডানকুনি ও চণ্ডীতলার এক বিএলওকে শোকজ করা হয়েছে। এইসব কেন্দ্রের ইআরওদের থেকেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। শোকজের মুখে পড়ছেন এইআরওরাও।
এছাড়াও কমিশন জানিয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ৬৮,৫৫৬টি, সিপিএমের তরফে ৪২,৭৫৯টি, বিজেপির তরফে ৫৫,১৬১টি অভিযোগ জমা পড়েছে। আর ত্রুটিহীন তালিকা প্রকাশের দাবিতে তরুণ মণ্ডলের নেতৃত্বে সিইও অফিসে ডেপুটেশন জমা দিয়েছে এসইউসিআই।
৮৫-ঊর্ধ্ব ভোটারের শুনানি বাড়িতেই
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা পর্বে ৮০-ঊর্ধ্ব ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করেছিল নির্বাচন কমিশন। আর এবার হল ৮৫-ঊর্ধ্ব ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুনানির সিদ্ধান্ত। আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৮৫-ঊর্ধ্ব কোনও ভোটার যদি শুনানির ডাক পান, সেক্ষেত্রে তাঁকে শুনানি গ্রহণ কেন্দ্রে আসতে হবে না। কমিশনের প্রতিনিধিরাই শুনানির ডাক পাওয়া সংশ্লিষ্ট প্রবীণ ভোটারের বাড়ি পৌঁছে যাবেন। সেখানেই শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন সেই ভোটার। জানা যাচ্ছে, বুথ লেভেল অফিসার এবং এইআরও সংশ্লিষ্ট ভোটারের বাড়ি সশরীরে উপস্থিত হবেন। মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, আজ, বৃহস্পতিবার থেকেই অটো জেনারেটেড চিঠি পাঠানো শুরু হবে শুনানির জন্য।