সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: সোমবার গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় এলাকাবাসীর। সামশেরগঞ্জের চাচণ্ডে ফের ভয়াবহ গঙ্গা ভাঙন শুরু হয়। কোনও প্রকারে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন এলাকাবাসী। তাঁরা দেখেন, নদীতে ভেঙে পড়ছে পাকাবাড়ি। নিমেষেই দু’টি বাড়ি সহ ঘরের আসবাবপত্র তলিয়ে যায়। একটি বাছুর সহ গোয়ালঘরের একাংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। আতঙ্কে রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। এখন শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে ঘরের জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।
সামশেরগঞ্জের বিডিও সুজিতচন্দ্র লোধ বলেন, দু’টি বাড়ি পড়ে গিয়েছে, সেখানে ছ’টি পরিবার বাস করত। একটি গবাদিপশু সহ কিছু গাছপালা তলিয়ে গিয়েছে। এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে। তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে উত্তর চাচণ্ডে বাসিন্দারা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ১টা নাগাদ প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভাঙে লক্ষ্মণ মণ্ডলের। তাঁর বাড়ির একাংশ হুড়মুড়িয়ে নদীতে তলিয়ে যায়। কোনওরকমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন পরিবারের সদস্যরা। হঠাৎ করে ভাঙনের ফলে ঘরের আসবাবপত্র সবকিছু নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। পাশের গোয়ালঘরের একাংশ তলিয়ে যায়। সেখানেই ছিল তাঁর প্রিয় পোষ্য বাছুরটি। নিমেষেই চোখের সামনেই তলিয়ে যায়। তলিয়ে গিয়েছে একাধিক ছোটবড় গাছপালাও। ফাটল ধরেছে গঙ্গা সংলগ্ন এলাকায় থাকা প্রাচীন কালীমন্দিরে। যে কোনও মুহূর্তে তলিয়ে যেতে পারে মন্দির। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি পাকাবাড়ি খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই আতঙ্কে আর হুড়োহুড়িতে যে যেদিকে পারছেন পালাচ্ছেন। বাড়ির আসবাবপত্র নিয়ে অন্যত্র পালাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কোথায় যাবেন, কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না দুর্গত গৃহহারারা। তলিয়ে যাওয়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে লক্ষ্মণবাবু বলেন, রাতে সকলে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। খাট-বিছানা, জিনিসপত্র সব চলে গেলো। ১০ মিনিটও সময় পাইনি। বাছুরটিকেও টানার সময় পাইনি।
স্থানীয় গৃহবধূ মাধুরি সরকার ঘরের উঠোনে বসে বলেন, এই আতঙ্কে আর ঘরে থাকতে পারিনি। রাত ১ থেকেই জেগে বসে রয়েছি। এই পরিস্থিতি কোথায় যাব?
নদীর কিনারায় ঝুলতে থাকায় আরও অন্তত গোটা দশেক পরিবার ঘর ভেঙে নেওয়ার কাজ যাচ্ছে। জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দুর্গতরা আপাতত স্থানীয় আমবাগানে আশ্রয় নিয়েছেন। ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, গৃহহারাদের সাহায্যের জন্য ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। দুর্গত স্থানীয়দের একটি স্কুলে ও অস্থায়ী শিবিরে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সামশেরগঞ্জের বিধায়ক আমিরুল ইসলাম বলেন, গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকটি এলাকায় ভাঙনও দেখা দিয়েছে। একাধিক বাড়ি পড়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করা হচ্ছে। দুর্গতের ত্রাণ সামগ্রীর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।