সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: গঙ্গায় জলস্তর বৃদ্ধি পেতেই সামশেরগঞ্জের শিবপুরে ভাঙন শুরু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই এলাকার যাতায়াতের পিচ রাস্তার একাংশ নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। রাস্তার পাশেই রয়েছে একাধিক পাকাবাড়ি। তারমধ্যে বেশ কয়েকটি পাকাবাড়ি কিনারায় ঝুলছে। সেগুলি তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমন অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে অন্যত্র পালাচ্ছেন এলাকাবাসী। সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন শেষ সম্বলটুকু। সামশেরগঞ্জের বিডিও সুজিতচন্দ্র লোধ বলেন, রাস্তার একটি অংশ তলিয়ে গিয়েছে। এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। কিছু পরিবারকে ত্রাণসামগ্রীও দেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের কাজও শুরু করেছে সেচদপ্তর।
গত কয়েকদিনে সামশেরগঞ্জে গঙ্গায় কয়েক ফুট জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীতে জল বাড়তেই সিঁদুরে মেঘ দেখেন এলাকাবাসী। সপ্তাহ খানেক আগেই লোহরপুরে আচমকাই নদীর পাড়ে ধস নামে। তখন থেকেই ভাঙনের আতঙ্ক ছড়ায়। গত দু’দিনে নদীর জলস্তর আরও কিছুটা বাড়তেই ভাঙন শুরু হয়। কয়েক মিটার পিচ রাস্তা নদীতে তলিয়ে যায়। গ্রামীণ এলাকায় যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটির উত্তর দিকের কয়েক মিটার অংশ বছর দু’য়েক আগেই নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে।
ওই রাস্তা দিয়েই এলাকার মানুষ যাতায়াত করে। রাস্তার বিপরীত প্রান্তে রয়েছে প্রায় শতাধিক কাঁচাপাকা বাড়ি। রাস্তাটি নদীতে চলে যাওয়ায় কয়েকটি পাকাবাড়ির দেওয়াল নদীর কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। কয়েকটি পাকাবাড়ি তলিয়ে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। আতঙ্কে ঘরের আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা হামিদ শেখ বলেন, যে কোনও মুহূর্তে বাড়িঘর তলিয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় ছোট বাচ্চা নিয়ে ঘরে কীভাবে থাকব? আপাতত কোনও আত্মীয়ের বাড়িতে যাব। নদীর পাড় বাঁধিয়ে স্থায়ী সমাধান করুক প্রশাসন। না হলে গোটা গ্রামটিই তলিয়ে যাবে।
জলস্তর আরও বাড়লে ভাঙনের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। প্রসঙ্গত, বিগত দু’বছর আগে শিবপুরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। প্রায় শতাধিক কাঁচাপাকা বাড়ি, গাছপালা সহ জমি নদীতে তলিয়ে গিয়েছিল। সেই স্মৃতি নতুন করে ফিরে আসছে। -নিজস্ব চিত্র